করোনাকালে ঘরের আইসোলেশনে থাকা বাবার কাছে খাবার পৌঁছে দিতে বানিয়েছিলেন একটি খুদে ‘লাইন-ফলোয়িং’ রোবট। ছোটবেলার সেই কৌতুহল ও প্রযুক্তির নেশাকে কাজে লাগিয়ে কলেজের গণ্ডি না পেরোতেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য কুড়ালেন বাংলাদেশের দুই ভাই; শাফি বিন সুলতান ও সাবিক বিন সুলতান। বিশ্বজুড়ে উদীয়মান স্টার্টআপ ও ছোট উদ্যোক্তাদের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্ল্যাটফর্ম ‘এজেন্টিকহায়ার’ তৈরি করে সম্প্রতি প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের সিড ফান্ডিং বা প্রাথমিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছেন এই দুই তরুণ।
বর্তমানে বিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলার একাদশ শ্রেণীর ছাত্র সাবিক বিন সুলতান (সিইও) এবং সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র শাফি বিন সুলতান (সিওও) যৌথভাবে এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মটির সূচনা করেন। মূলত সিঙ্গাপুরে আয়োজিত ‘ইয়ুথ ফাউন্ডার সামিট’ নামের একসিলারেটর প্রোগ্রামে এশিয়ার একাধিক দেশের তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত সাতজনের একটি আন্তর্জাতিক টিমের মাধ্যমে এজেন্টিকহায়ারের জন্ম হয়। এই উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্মের সক্ষমতা ও বাজার সম্ভাবনা দেখে প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, গার্ডিয়ান লাইফ ইনস্যুরেন্স, স্পোর্টিফাই, ওয়েভস্পার্কস এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইয়ুথ কাউন্সিলের মতো আন্তর্জাতিক ও দেশীয় স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রাথমিক ফান্ডিং দিতে এগিয়ে এসেছে।
‘এজেন্টিকহায়ার’ মূলত যেসব ছোট স্টার্টআপ বা প্রতিষ্ঠানের আলাদা কোনো এইচআর বা মানবসম্পদ বিভাগ নেই, তাদের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সংক্রিয় করে দেয়। এটি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে প্রাথমিক সিভি স্ক্যানিং, সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং প্রতিটি প্রার্থীর ওপর সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনামূলক সামারি তৈরি করে দিতে পারে; যদিও চূড়ান্ত নিয়োগের সিদ্ধান্তটি মানুষের হাতেই রাখা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের মর্যাদাপূর্ণ ইয়ুথ ফাউন্ডার সামিটে এশিয়ার ১১টি দেশের ৭০ জন প্রতিযোগী তরুণদের পেছনে ফেলে সেরা তিনে জায়গা করে নিয়েছে এই উদ্যোগটি।
ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শীর্ষ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নিজের প্রতিষ্ঠিত উদ্যোগকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ঢাকার এই দুই ভাই। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা এই দলটি তাদের উদ্ভাবিত প্ল্যাটফর্মটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈশ্বিকভাবে লঞ্চ করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার তরুণদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই স্টার্টআপটি বর্তমানে হার্ভার্ডের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সরাসরি দিকনির্দেশনায় পণ্যটির অ্যালগরিদম ও ফিচারগুলোর মানোন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

