টানা আট দিনের ছুটি শেষে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে শনিবার (২৪ অক্টোবর) আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সার্ভার জটিলতায় স্বাভাবিক বাণিজ্য ব্যাহত হয়েছে। পচনশীল পণ্য আমদানির জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ পণ্যের আমদানি ও রপ্তানির তথ্য এন্ট্রি করতে না পারায় কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক করা যায়নি বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে ১৭ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বেনাপোল পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত পণ্য আমদানি রপ্তানি বন্ধ ছিল। এ সময় দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল। ছুটি শেষে শনিবার সকাল থেকে বাণিজ্য পুনরায় শুরুর কথা থাকলেও সার্ভারের সমস্যায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা রোমেন মিত্র জানান, সার্ভার সমস্যার কারণে নিয়মিত পদ্ধতিতে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্দর ও কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পচনশীল পণ্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সার্ভার সচল না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ পণ্যের আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক করা কঠিন হবে বলে জানান তিনি।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিনও জানান, সার্ভার জটিলতায় পণ্যের তথ্য এন্ট্রি করা যাচ্ছে না। এদিকে পণ্যবোঝাই ছয়টি ভারতীয় ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে স্কেলের সামনে অপেক্ষা করছিল। কর্মকর্তা কর্মচারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত থাকলেও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা তৈরি হয়।
বেনাপোল আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে সীমান্তের দুই পাশে পণ্যবোঝাই ট্রাকের জট তৈরি হয়েছে। কয়েক হাজার ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যবাহী কোনো ট্রাক ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ করেনি।
বন্দরের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তবিবর রহমান জানান, আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি থাকায় শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সার্ভার সমস্যার কারণে তাঁদের স্বাভাবিক কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
বেনাপোল স্থলবন্দর ভারত বাংলাদেশের বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। এ পথে নিয়মিত পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে শুধু ট্রাকের জটই বাড়ে না, আমদানিনির্ভর ব্যবসার পণ্য সরবরাহ ও শিল্পের কাঁচামাল পৌঁছাতেও দেরি হতে পারে। ফলে সার্ভার সমস্যা দ্রুত সমাধান করে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা এখন বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে সকাল ৯টা থেকে আমদানি রপ্তানি শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে দুপুরে সমকালের প্রতিবেদনে সার্ভার জটিলতায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার তথ্য আসে। ফলে বাণিজ্য পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বন্দরের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন।

