দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের একটি সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনের এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী। এবারের মেলায় ২০টি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা এবং প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’। পর্যটন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসার এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ জোরদার করাই আয়োজনের লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। আরও ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেট, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী ও টোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ।
মেলায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজান। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল রয়েছে। প্রদর্শক হিসেবে অংশ নিচ্ছেন ২২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান। চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে বিমান সংস্থা, হোটেল ও ট্যুর অপারেটররা নিজেদের সেবা ও পণ্য তুলে ধরছেন।
আয়োজকেরা আশা করছেন, তিন দিনে ২৫০ জনের বেশি সম্ভাব্য ক্রেতা এবং ২ হাজার ৫০০-এর বেশি ট্রেড ভিজিটর মেলায় আসবেন। সাধারণ দর্শনার্থীর সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলেও তাঁদের প্রত্যাশা। এই সংখ্যা ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও নতুন চুক্তির সুযোগ তৈরির দিক থেকে মেলাটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাত নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বিটিটিএফের মতো প্ল্যাটফর্ম দেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের চর্চা বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে। তিনি পর্যটন খাতের বিকাশে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
টোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, টানা ১৩টি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, এই মেলা দেশীয় পর্যটনকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার পাশাপাশি বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে।
এবারের মেলার টাইটেল স্পনসর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এয়ারলাইনস পার্টনার হিসেবে আছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ ও এফবিসিসিআই মেলাটির আয়োজনে সহযোগিতা করছে।
মেলা শুক্র ও শনিবার প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
দেশের পর্যটন খাতের জন্য এ ধরনের আয়োজন বিদেশি পর্যটক টানার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ব্যবসার প্রসারেও সহায়ক। তবে মেলার আলোচনা ও চুক্তি বাস্তবে কতটা বিনিয়োগ ও পর্যটক বাড়াতে পারে, সেটিই এই খাতের জন্য আসল পরীক্ষা হবে। অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও সেবার মান উন্নত না হলে শুধু প্রচারে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া কঠিন।

