চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পুরোনো তাঁতযন্ত্র আমদানির ঘোষণা দিয়ে অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের খুচরা যন্ত্রাংশ আনার অভিযোগ উঠেছে। কম শুল্কের সুবিধা নিতে আমদানিকারকদের একটি অংশ পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এ ধরনের অনিয়ম করছেন বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে অন্তত ৩০টি কনটেইনারে ঘোষণার বাইরে থাকা বিভিন্ন অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ শনাক্ত করা হয়েছে। এসব চালানে প্রায় ৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের জরিমানাও করা হয়েছে। তবে রাজস্ব ও জরিমানা মিলিয়ে আরও প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা আদায় বাকি রয়েছে। কিছু আমদানিকারক আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ায় অর্থ আদায়ে বিলম্ব হচ্ছে। এ ছাড়া বন্দরে আরও প্রায় ৮০টি কনটেইনার পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে।
ঘোষণার বাইরে পাওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে উড স্ক্রু, নাট-বল্টু, শক কানেক্টর, শক অ্যাবজরবার পাইপ, গিয়ার, মাডগার্ডসহ বিভিন্ন যানবাহনের যন্ত্রাংশ। এসব উপকরণ সাধারণ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও নসিমনে ব্যবহার করা হয়।
অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখার মামলার রেকর্ড থেকে জানা যায়, রিমি সরকার দোয়া টেক্সটাইল ও এসএন টেক্সটাইলসহ অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। তদন্তের নথি অনুযায়ী, রিমি সরকার দোয়া টেক্সটাইল ৯১ হাজার ২০০ ডলার বা প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা মূল্যের ১৩৩ টন পুরোনো পাওয়ার লুম আমদানির ঘোষণা দেয়। তবে পরীক্ষায় ১০৭ টন তাঁতযন্ত্রের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৩৫ দশমিক ৩১ টন উড স্ক্রু পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, এসএন টেক্সটাইল ৭৯ হাজার ৬০০ ডলার বা প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ১৩২ টন ব্যবহৃত পাওয়ার লুম আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু কনটেইনার পরীক্ষা করে ৩৯ টন অঘোষিত পণ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছিল নাট-বল্টু, শক কানেক্টর, শক অ্যাবজরবার পাইপ, গিয়ার ও মাডগার্ডসহ বিভিন্ন অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ।
এই দুটি চালানের ঘোষিত মূল্য ছিল প্রায় ২ কোটি টাকা। ঘোষণার ভিত্তিতে শুল্ক-কর প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল প্রায় ৮ লাখ টাকা। কিন্তু কাস্টমস কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, চালান দুটিতে প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ মোহাম্মদ আল আমীন জানান, আমদানি করা কিছু যন্ত্রপাতি কারখানায় ব্যবহারের অনুপযোগী হতে পারে এবং সেগুলো স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যেও আনা হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, কম শুল্কের ব্যবহৃত তাঁতযন্ত্র কনটেইনারের সামনের দিকে রেখে পেছনে উচ্চ শুল্কযুক্ত অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ আনা হয়েছে। এতে সহজে পণ্য খালাসের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত আগস্টে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হেলাল আমিন এসএন টেক্সটাইল ও রিমি সরকার দোয়া টেক্সটাইলের পক্ষে পৃথক রিট আবেদন করেন। তবে মামলা দুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।
প্রতিষ্ঠান দুটির ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট আনাতুল হাসান সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল হক বলেন, কাস্টমস অনিয়ম শনাক্ত করার পরই আমদানিকারকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে তারা পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, তা জানাননি। আটক চালানগুলো আমদানিকারকেরা খালাস করবেন কি না, সে বিষয়েও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত মিল না থাকায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রকৃত বাণিজ্যিক মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণ করছে। পাশাপাশি কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

