ধরুন, একই মালিকের দুটি কারখানা। একটি বাংলাদেশে, অন্যটি ভিয়েতনামে। দুই কারখানার যন্ত্রপাতি একই ধরনের, পণ্যও একই। এমনকি ক্রেতারাও প্রায় একই। অথচ ভিয়েতনামের কারখানায় তিনি বাংলাদেশের শ্রমিকদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেতন দেন। তারপরও বছর শেষে বেশি মুনাফা করেন ভিয়েতনামের কারখানা থেকেই। শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও এর পেছনে অর্থনৈতিক যুক্তি রয়েছে। আর সেই যুক্তি বুঝতে পারলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বর্তমান সংকটের অনেক উত্তর পাওয়া যাবে।
চলতি মাসের শুরুতে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে পাঁচশর বেশি কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ১ নভেম্বর সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। আগামীকাল ৯ নভেম্বর বোর্ডের দ্বিতীয় বৈঠকে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার কথা। শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। অন্যদিকে মালিকপক্ষ বলছে, উৎপাদন খরচ এমনিতেই বেড়েছে তার উপর গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটও ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
দুই পক্ষের কথারই বাস্তব ভিত্তি আছে। কিন্তু এই আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পাচ্ছে। সেটি হলো কারখানার বাইরের খরচ। একটি কারখানা চালাতে শুধু শ্রমিকের মজুরি বা কাঁচামালের দামই লাগে না। বিদ্যুৎ, পরিবহন, বন্দর, কাস্টমস, ঋণ এবং সরকারি অনুমোদন পেতেও সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এসব খরচের কারণে বাংলাদেশের একটি কারখানা কতটা পিছিয়ে পড়ছে, সেটিও মজুরি বিতর্কের অংশ হওয়া উচিত।
| “আপনাদের পয়সা না দিলে শ্রমিকদের ৩০ না ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম”
— মাসুদুজ্জামান মাসুদ, সাবেক সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং চেয়ারম্যান, মডেল গ্রুপ |
মজুরি দ্বিগুণ করলেই খরচ দ্বিগুণ হয় না
প্রথমে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের শ্রমিকদের মজুরির পার্থক্যটি দেখা যাক। বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা, যা ডলারে প্রায় ১০০ ডলার। অন্যদিকে ভিয়েতনামে অঞ্চলভেদে চার ধরনের ন্যূনতম মজুরি রয়েছে। সর্বোচ্চ মজুরির অঞ্চলে এ বছর থেকে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৫৩ লাখ ১০ হাজার ডং, যা প্রায় ২১০ ডলারের সমান। অন্যান্য অঞ্চলে এই হার কিছুটা কম। তারপরও দুই দেশের মজুরির ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ।
এখন প্রশ্ন হলো, শ্রমিকের বেতন দ্বিগুণ হলে কারখানার মোট উৎপাদন খরচও কি দ্বিগুণ হয়ে যায়? বাস্তবে তা নয়। ফেয়ার ওয়ার ফাউন্ডেশনের একটি হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে একটি পোলো শার্ট তৈরি করতে মোট খরচ হয় ৩ ডলার ৫০ সেন্ট। এর মধ্যে সরাসরি শ্রমিকের মজুরি মাত্র ৩৩ সেন্ট। বাকি টাকা খরচ হয় কাপড়, অ্যাকসেসরিজ, এমব্রয়ডারি, প্যাকেজিং ও অন্যান্য কাজে।
তথ্যটি কয়েক বছরের পুরোনো হলেও উৎপাদন খরচের কাঠামো বুঝতে এটি সাহায্য করবে আমাদের। ধরুন, শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ হয়ে ৩৩ সেন্ট থেকে ৬৬ সেন্ট হলো। তাহলে একটি পোলো শার্ট তৈরির মোট খরচ ৩ ডলার ৫০ সেন্ট থেকে বেড়ে হবে ৩ ডলার ৮৩ সেন্ট। অর্থাৎ শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ হলেও মোট উৎপাদন খরচ বাড়বে ১০ শতাংশের কম। ফলে বোঝা যায়, কারখানার লাভ বা ক্ষতির হিসাব শুধু শ্রমিকের মজুরির ওপর নির্ভর করে না। মোট খরচের বাকি বড় অংশ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তাহলে কি ভিয়েতনামের শ্রমিকেরা বাংলাদেশের শ্রমিকদের তুলনায় এত বেশি দক্ষ যে তাঁদের দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও মালিক বেশি লাভ করতে পারছেন? না, বিষয়টি পুরোপুরি এমন নয়। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে একজন শ্রমিক গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ৮ দশমিক ৭ ডলারের সমপরিমাণ উৎপাদন করেন। ভিয়েতনামে এই পরিমাণ ১২ দশমিক ৪ ডলার। অর্থাৎ শ্রমিকপ্রতি উৎপাদনের ব্যবধান প্রায় ৪০ শতাংশ। অথচ মজুরির ব্যবধান প্রায় ১০০ শতাংশ।
যদিও, এই উৎপাদনশীলতার হিসাব পুরো অর্থনীতির গড়, শুধু পোশাকশিল্পের নয়। তারপরও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। দুই দেশের মজুরির ব্যবধানের পুরো ব্যাখ্যা শ্রমিকের কাজের গতির মধ্যে পাওয়া যাবে না। কারখানার বাইরের ব্যবসায়িক পরিবেশও এখানে বড় ভূমিকা রাখে।
তিন ধরনের খরচ উৎপাদন ব্যয়ের হিসাবে সরাসরি চোখে পড়ে না
বাংলাদেশের একটি কারখানা চালাতে মালিককে এমন কিছু খরচ বহন করতে হয়, যা সাধারণত উৎপাদন ব্যয়ের হিসাবে সরাসরি চোখে পড়ে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এগুলোই মুনাফা কমিয়ে দেয়। বিষয়টি তিনটি জায়গা দিয়ে বোঝা যায়। এগুলো হলো, সরকারি অনুমোদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পণ্য পরিবহন। চলুন, এক এক করে ব্যপারগুলো বোঝার চেষ্টা করি।
|
“বাংলাদেশকে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে, সুদ কমাতে হবে, জ্বালানির দাম স্থিতিশীল করতে হবে।” __খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষণা পরিচালক, সিপিডি |
প্রথমটি হলো সরকারি দপ্তরের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটের বিশেষ অধ্যায় অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিয়মকানুন মানা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রয়োজন মেটাতে নিজেদের মোট কর্মসময়ের গড়ে ১৩ শতাংশ ব্যয় করেন। এ হার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
একটি নির্মাণ অনুমোদন বা আমদানি লাইসেন্স পেতে গড়ে প্রায় ৪৯ দিন লাগে। চীন ও ভারতের তুলনায় এই সময় প্রায় দ্বিগুণ। আবার নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেতেও গড়ে ৮৯ দিন অপেক্ষা করতে হয়। এই অপেক্ষার অর্থ শুধু সময় নষ্ট নয়। কারখানার নতুন যন্ত্র বসানো, উৎপাদন শুরু করা কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণও পিছিয়ে যায়। ফলে উদ্যোক্তার বিনিয়োগ আটকে থাকে, অথচ সেই বিনিয়োগ থেকে আয় আসতে দেরি হয়।
দ্বিতীয় বিষয়টি বিদ্যুৎ সরবরাহ। একই বিশ্বব্যাংক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৭১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যায় পড়ে। গড়ে মাসে ২৬ বার বিদ্যুৎ যায়। এর কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে তাদের সম্ভাব্য বিক্রির প্রায় ৯ শতাংশ হারায়। প্রতি চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় একটিকে মাঝেমধ্যে নিজস্ব জেনারেটর চালাতে হয়।
জেনারেটর চালাতে বাড়তি জ্বালানি লাগে, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ থাকে এবং উৎপাদনের ব্যয়ও বেড়ে যায়। আবার বিদ্যুৎ চলে গেলে নির্ধারিত সময়ে পণ্য তৈরি করা যায় না। ফলে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছাতে দেরি হয়। জরিপটি শুধু পোশাক কারখানা নিয়ে নয়, বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান নিয়ে করা। তারপরও ব্যবসার পরিবেশ বুঝতে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে একটি তুলনা লক্ষ করার মতো। আগের হিসাবে দেখা গেছে, শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ হলে একটি পোলো শার্টের মোট উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে ১০ শতাংশের কম। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বিক্রি কমছে প্রায় ৯ শতাংশ। দুটি হিসাবের ভিত্তি এক নয়, তাই সরাসরি সমান করে দেখা যাবে না। তবে এটুকু বোঝা যায়, উৎপাদনের বাইরের সমস্যাগুলোও ব্যবসার ওপর কতটা বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
তৃতীয় বিষয়টি হলো বন্দর, কাস্টমস ও পরিবহনব্যবস্থা। বিশ্বব্যাংকের এক কর্মকর্তার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহন ও সরবরাহসংক্রান্ত খরচ জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ। বিশ্বে এর গড় প্রায় ১০ শতাংশ। অর্থাৎ পণ্য উৎপাদনের পর সেটি ক্রেতার কাছে পৌঁছাতেও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের তুলনামূলক বেশি খরচ করতে হয়।
বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্সে ১৩৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮৮তম। ভিয়েতনাম ছিল ৪৩তম। অন্যদিকে কনটেইনার পোর্ট পারফরম্যান্স সূচকের সর্বশেষ সংস্করণে প্রায় ৪০০ বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৩৬৪তম।
বিশ্বব্যাংকের একটি গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনার পড়ে থাকার সময় এক দিন কমানো গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক ফ্যাশন বাজারে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি পোশাকের চালান নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারলে ক্রেতা পরবর্তী অর্ডার অন্য দেশের কারখানায় দিতে পারেন। এই ক্ষতি শুধু একটি চালানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসায়িক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ঋণের সুদের হারেও দুই দেশের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর গড় ঋণের সুদের হার ছিল ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ভিয়েতনামে বছরের মাঝামাঝি এই হার ছিল ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যবধান খুব বেশি নয়। কারণ ভিয়েতনামেও চলতি বছর ঋণের সুদ বেড়েছে।
একই সম্পদ ব্যবহার করে যেভাবে বেশি ও ভালো পণ্য তৈরি করা যায়
সরকারি অনুমোদন, বিদ্যুৎ, বন্দর, পরিবহন ও ঋণের খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করলে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা সামনে আসে। এর নাম টোটাল ফ্যাক্টর প্রোডাক্টিভিটি বা টিএফপি।
শুনতে কঠিন মনে হলেও ধারণাটি সহজ। ধরুন, দুটি রুটির কারখানা একই পরিমাণ ময়দা ব্যবহার করে, একই ধরনের ওভেন আছে এবং সমানসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু একটি কারখানা প্রতিদিন অন্যটির তুলনায় অনেক বেশি রুটি তৈরি করে। কেন? কারণ সেখানে বিদ্যুৎ যায় না, কাঁচামাল সময়মতো পৌঁছায়, ট্রাক যানজটে আটকে থাকে না এবং সরকারি অনুমোদনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় না।
অর্থাৎ শ্রমিক বা যন্ত্রপাতির সংখ্যা না বাড়িয়েও কারখানাটি বেশি উৎপাদন করতে পারছে। কাজের এই বাড়তি দক্ষতাকেই সহজভাবে টোটাল ফ্যাক্টর প্রোডাক্টিভিটির মাধ্যমে বোঝানো হয়। অর্থনীতিতে এটি দিয়ে হিসাব করা হয়, শ্রম ও পুঁজি ব্যবহারের বাইরে অন্য যেসব কারণে উৎপাদন বাড়ছে, সেগুলোর সম্মিলিত প্রভাব কতটা।
| “উৎপাদনশীলতাই সব নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি প্রায় সবকিছু।”
__পল ক্রুগম্যান, অর্থনীতিবিদ ও নোবেল বিজয়ী |
অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শ্রম ও পুঁজির পরিমাণ দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির পুরো হিসাব মেলে না। এর বাইরে প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহারও উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রাখে। ১৯৫৭ সালে অর্থনীতিবিদ রবার্ট সোলো তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছিলেন, ১৯০৯ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ঘণ্টাপ্রতি উৎপাদন বৃদ্ধির প্রায় ৯০ শতাংশের পেছনে ছিল এই অতিরিক্ত উৎপাদনশীলতার ভূমিকা।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় অর্থনীতিবিদ চ্যাং তাই শিয়েহ ও পিটার ক্লেনো দেখিয়েছেন, কোনো দেশের কারখানাগুলোর মধ্যে শ্রম ও পুঁজি যদি যুক্তরাষ্ট্রের মতো দক্ষভাবে বণ্টন করা যেত, তাহলে উৎপাদনশীলতা চীনে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং ভারতে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারত।
তবে টিএফপি সরাসরি মাপার কোনো সহজ পদ্ধতি নেই। বিভিন্ন তথ্য ও হিসাবের মাধ্যমে এর পরিমাণ নির্ধারণ করতে হয়। তাই একে নির্ভুল মাপকাঠি না ভেবে অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা কোন দিকে যাচ্ছে, তা বোঝার একটি নির্দেশক হিসেবে দেখা ভালো।
ভিয়েতনামের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারাও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, শুধু বেশি শ্রমিক নিয়োগ বা নতুন যন্ত্রপাতি কেনা দিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা সম্ভব নয়। একই সম্পদ ব্যবহার করে কীভাবে বেশি ও ভালো মানের পণ্য তৈরি করা যায়, সেই দক্ষতাই দীর্ঘ মেয়াদে পার্থক্য গড়ে দেয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দুটি ভিন্ন চিত্র
বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের একই প্রতিবেদন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতার একটি বড় বৈপরীত্য তুলে ধরেছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান একই গতিতে এগোচ্ছে না। সবচেয়ে উৎপাদনশীল ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় গড়ে ১১ গুণ বেশি উৎপাদনশীল। এসব প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক খাতের মোট বিক্রির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ করে, অথচ কর্মসংস্থান দেয় মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষের।
অন্যদিকে, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের হারও কমেছে। এক দশক আগে দেশের মোট প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ শতাংশ রপ্তানি করত। এখন সেই হার নেমে এসেছে ১৩ শতাংশে। অর্থাৎ দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো উৎপাদন ও ব্যবসার এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি, যেখান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত পণ্য বিক্রি করা সম্ভব।
কর্মসংস্থানের চিত্রও উদ্বেগজনক। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু একই সময়ে নতুন কাজ তৈরি হয়েছে প্রায় ৯ লাখের মতো। শিল্প খাতে কর্মসংস্থান বরং কমেছে। অর্থাৎ উৎপাদনশীলতার সমস্যা শুধু মালিকের মুনাফার বিষয় নয়, নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।
বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বাংলাদেশের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই জিডিপির ১ শতাংশেরও কম। আবার এই বিনিয়োগের বড় অংশ গেছে ইউটিলিটি বা সেবাভিত্তিক অবকাঠামো খাতে, উৎপাদনকারী কারখানায় নয়।
অন্যদিকে, ভিয়েতনামে ২০২৫ সালে প্রায় ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ বাস্তবে এসেছে। এর প্রায় ৮৩ শতাংশ গেছে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন খাতে। বিদেশি বিনিয়োগ শুধু অর্থ নিয়ে আসে না। এর সঙ্গে আসে উন্নত যন্ত্রপাতি, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ। এসবের মাধ্যমে স্থানীয় কারখানাগুলোর দক্ষতাও বাড়তে পারে।
এখানে বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতির আরেকটি দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন। সাধারণ করপোরেট করের হার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ হলেও পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য তা ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। আবার রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল থেকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যায়, অথচ অন্যান্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ নিতে হয় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত সুদে।
এসব সুবিধা পোশাকশিল্পকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের সতর্কতা হলো, কোনো খাতে দীর্ঘদিন ধরে শর্তহীন সুবিধা দেওয়া হলে তা একসময় স্থায়ী অধিকারের মতো হয়ে যায়। তাই এসব সুবিধার নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকা এবং নির্ধারিত সময়ে সেগুলো কতটা ফল দিচ্ছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
অর্থনীতির ভাষায়, উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শ্রম ও পুঁজির সঠিক বণ্টন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কম উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে সম্পদ আটকে থাকলে পুরো অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা কমে যায়। চ্যাং তাই শিয়েহ ও পিটার ক্লেনোর গবেষণার মূল বক্তব্যের সঙ্গেও বিষয়টির মিল রয়েছে।
প্রতিযোগীদের কাছ থেকে শেখার সময় এসেছে
বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের তুলনা করতে গিয়ে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। ভিয়েতনামের ব্যবসায়িক পরিবেশে যেমন কিছু সুবিধা রয়েছে, তেমনি তাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২০২৫ সালে ছিল ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। অন্যদিকে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানিও এখন প্রায় একই পর্যায়ে। বিভিন্ন উৎসের হিসাবের পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় কোথাও বাংলাদেশ সামান্য এগিয়ে, কোথাও ভিয়েতনাম। তবে দুই বছর আগের তুলনায় দুই দেশের ব্যবধান যে অনেক কমেছে, তা স্পষ্ট।
ভিয়েতনামের একটি বড় সুবিধা হলো বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি। দেশটি সিপিটিপিপি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইভিএফটিএ, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এবং আরসিইপির সদস্য। এসব চুক্তির কারণে দেশটির রপ্তানিকারকেরা অনেক বড় বাজারে তুলনামূলক সুবিধা পান।
তবে ভিয়েতনামও কাপড়ের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ২০২৫ সালে দেশটির পোশাক ও বস্ত্র খাতের সম্মিলিত রপ্তানি ছিল প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে এই খাতে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করতে হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের ছিল কাপড়। ভিয়েতনামের শিল্পনেতারাও বলছেন, উৎপাদন খরচ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে।
|
“উচ্চমূল্যের পণ্য না বানিয়ে এখন বাজারে টিকে থাকা কঠিন।” __নাজনীন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ |
সেখানেও শ্রমিকদের মজুরি বাড়ছে। চলতি বছর মজুরি ৭ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং ২০২৭ সালের জন্য আরও ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব এগিয়েছে।
বাংলাদেশের জন্যও কিছু সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এলডিসি উত্তরণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। গত ২৯ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় তিন বছর পিছিয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে। এতে ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে অন্তত ওই সময় পর্যন্ত কিছুটা নিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অতিরিক্ত তিন বছরকে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, শিল্পের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে আরেকটি সতর্কতা জরুরি। কোনো একজন মালিকের দুটি কারখানার প্রকৃত আয় ও ব্যয়ের হিসাব আমাদের হাতে নেই। এখানে দেশভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে তুলনাটি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বাস্তবে পণ্যের ধরন, অর্ডারের দাম, কারখানার আকার এবং অবস্থান অনুযায়ী মুনাফার চিত্র আলাদা হতে পারে। বাংলাদেশের একজন পোশাকশিল্প মালিকের পর্যবেক্ষণ, ভিয়েতনামে স্পোর্টসওয়্যারের মতো তুলনামূলক বেশি দামের পণ্য বেশি তৈরি হয়, যা তাদের গড় বিক্রয়মূল্য বাড়ায়। ওই মালিকের মতে, প্রতিযোগীদের কাছ থেকে শেখার সময় এসেছে।
মজুরি বাড়ানোর সামর্থ্য তৈরি হবে যেভাবে
তাহলে কি শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো বন্ধ রাখতে হবে? না। আসল প্রশ্ন মজুরি বাড়ানো যাবে কি না, তা নয়। বরং মজুরি বাড়ানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা কীভাবে তৈরি করা যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ মেয়াদে একটি দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। তাই শ্রমিকের আয় বাড়াতে হলে একই সঙ্গে কারখানার উৎপাদনক্ষমতা ও ব্যবসার দক্ষতাও বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংস্কারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত যেখানে সময় ও অর্থ সবচেয়ে বেশি নষ্ট হচ্ছে, সেখান থেকে। প্রথমে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এরপর বন্দর ও কাস্টমসের কাজ দ্রুত শেষ করার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা কমানো, শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানো এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ ও প্রতিযোগিতার সমান সুযোগ তৈরি করাও জরুরি।
অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকার ব্যবসা শুরু করার সময় ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো কর্তৃপক্ষ সাড়া না দিলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। এ ছাড়া আগস্টে বিডা, বেজা ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ গঠন করা হয়েছে।
তবে বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ ওয়ান স্টপ সার্ভিস এখনো বাস্তবে চালু হয়নি। অর্থাৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সব সেবা এখনো এক জায়গা থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, প্রশিক্ষক, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষতা যাচাইয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় আগে ছিল না। অনেক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এখনো এমন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, যা শিল্পকারখানায় অনেক আগেই বাতিল হয়ে গেছে।
সংস্কারের অগ্রগতি শুধু বক্তব্য বা নতুন প্রকল্পের সংখ্যা দিয়ে মাপলে হবে না। এর জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট সূচক নিয়মিত প্রকাশ করা যেতে পারে। যেমন, সরকারি অনুমোদন পেতে এখন গড়ে কত দিন লাগছে, মাসে কয়বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে, ব্যবস্থাপকেরা সরকারি কাজেই বা কত শতাংশ সময় ব্যয় করছেন, শ্রমিকপ্রতি ঘণ্টায় উৎপাদন কতটা বাড়ছে, বন্দরে কনটেইনার কত দিন পড়ে থাকছে এবং রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে নাকি কমছে।
এসব সূচকের বর্তমান ভিত্তি সংখ্যা আগে থেকেই রয়েছে। তাই প্রতি বছর এগুলোর পরিবর্তন প্রকাশ করা হলে বোঝা যাবে সংস্কার কতটা কাজে আসছে। এটি হবে একধরনের পরিমাপযোগ্য জবাবদিহি। শুধু কী করা হয়েছে, তা নয়, কাজের ফলে কী পরিবর্তন এসেছে, সেটিও দেখাতে হবে।
মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নিয়মিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। ভিয়েতনামে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত জাতীয় মজুরি পরিষদ নিয়মিত বিরতিতে মজুরি বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করে। বাংলাদেশে ২০১৮ সালে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ৮ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে তা বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে মজুরি একবারে ৫৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে মজুরি পর্যালোচনার ব্যবধান তিন বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে।
নির্দিষ্ট সময় পরপর মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা থাকলে মালিকেরা আগে থেকেই উৎপাদন খরচের পরিকল্পনা করতে পারবেন। শ্রমিকেরাও মূল্যস্ফীতির কারণে দীর্ঘ সময় পিছিয়ে পড়বেন না। ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি হওয়া উচিত কি না, সেটি মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে বোর্ডের আলোচনায় শুধু মজুরির অঙ্ক নয়, উৎপাদনশীলতা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পরিবহন খরচ ও অন্যান্য ব্যবসায়িক ব্যয়ের তথ্যও থাকা প্রয়োজন। তাহলে আলোচনা শুধু দাবি ও পাল্টা দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
শুরুর প্রশ্নে ফিরে আসা যাক। একই ধরনের পণ্য তৈরি করেও ভিয়েতনামের মালিক বাংলাদেশের তুলনায় বেশি মজুরি দেন এবং বেশি মুনাফা করেন কীভাবে? এর উত্তর হলো, তিনি শ্রমিকদের বেশি বেতন দিলেও ব্যবসার অন্যান্য ধাপে সময় ও অর্থ কম ব্যয় করছেন। বাংলাদেশের কারখানাকে শুধু শ্রমিকের মজুরি কমিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টা করলে চলবে না। সরকারি অনুমোদন, বিদ্যুৎ, বন্দর, কাস্টমস ও পরিবহনব্যবস্থার অদক্ষতা কমাতে হবে।
মজুরি ও কারখানার অস্তিত্বকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেখার পরিবর্তে বুঝতে হবে, দুটিই নির্ভর করছে একই অর্থনৈতিক বাস্তবতার ওপর। কারখানার বাইরের খরচ কমলে মালিকের মুনাফা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। সেই বাড়তি সক্ষমতা থেকেই শ্রমিকের মজুরি বাড়ানো সহজ হবে। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত শ্রমিকের মজুরি কম রাখা নয়, বরং একই খরচে আরও বেশি ও ভালো পণ্য তৈরি করার পরিবেশ গড়ে তোলা।
রাকিবুল ইসলাম
রিসার্চার (ফিন্যান্স, ট্রেড ও কমার্স)

