পাহাড়, সমুদ্র আর জলাভূমির অপরূপ সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ দেশ ব্রাজিল। প্রকৃতির দিক থেকে বাংলাদেশও তার সঙ্গে কিছুটা মিল খুঁজে পায়। দুদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও বাণিজ্যিক যোগাযোগ তেমন বাড়েনি। বর্তমানে ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় সয়াবিন তেল, চিনি, তুলা, পশুখাদ্য ও চামড়াজাত পণ্য। তবে বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে রফতানি খুব সীমিত।
কিন্তু এবার আশা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশি কৃষি ও ওষুধপণ্য রফতানির দরজা খুলছে ব্রাজিলে।
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মতে, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, দূরত্ব ও পরিবহন খরচসহ ব্রাজিলের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ ছিল। এছাড়া উচ্চ শুল্কের কারণে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে দুদেশের মোট ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার।
তবু আশার আলো দেখা দিয়েছে। ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতিমধ্যেই ১২টি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আরও ছয়টি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে জনশক্তি ও ওষুধ রফতানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেছেন, চুক্তিগুলো চূড়ান্ত হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে শুল্ক বাধা অনেকাংশে দূর হবে, যা বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের জন্য দক্ষিণ আমেরিকার বাজার খুলে দেবে। তিনি জানান, চুক্তিগুলো আগামী মার্চ বা এপ্রিল মাসে ব্রাজিলের পররাষ্ট্র সচিবের বাংলাদেশ সফরের সময় চূড়ান্ত হবে।
এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ব্রাজিল-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মহাসচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবদীন। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। রেডিমেড গার্মেন্টস বর্তমানে ব্রাজিলের বাজারে সরাসরি প্রবেশ করতে পারে না। অন্যান্য সমমনা দেশগুলোতে ৩৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। ব্রাজিলের মতো অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক কমানো গেলে দেশের পণ্য দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে সহজে রফতানি করা সম্ভব হবে।”
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা তাই নতুন এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে দেশের রফতানি সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

