ধারাবাহিকভাবে রপ্তানি আয় কমছে। একই সময়ে আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এই দুই প্রবণতার চাপে দেশের পণ্য বাণিজ্যে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানিতে খরচও বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১৫ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট—বিওপি) সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ৪৯ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩২ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৩৩ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার। আমদানি-রপ্তানির এই ব্যবধানই বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে। রপ্তানি সে হারে বাড়ছে না। ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যে চাপ বাড়ছে।
চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকলে নিয়মিত লেনদেনে ঋণের প্রয়োজন পড়ে না। ঘাটতি হলে তা পূরণে ঋণ নিতে হয়। সে দিক থেকে উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদ্বৃত্ত থাকা সুবিধাজনক।
তবে দেশে বর্তমানে চলতি হিসাব সামান্য ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ শেষে এ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ৮৭ কোটি ডলার।
সামগ্রিক লেনদেন বা ওভারঅল ব্যালান্স তুলনামূলক ভালো অবস্থায় রয়েছে। আলোচিত সময়ে এই সূচক দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্তে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এটি ছিল ১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার ঘাটতিতে।
প্রবাসী আয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। আগের বছর একই সময়ে ছিল ২১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৩ শতাংশ।
প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে এফডিআই এসেছে ১ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে নিট হিসাবে ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার বিদেশি বিনিয়োগ বেরিয়ে গেছে। আগের অর্থবছরেও এই খাতে বিনিয়োগ ঋণাত্মক ছিল।

