বেনাপোল কাস্টমস হাউজে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায় লক্ষ্য থেকে অনেক কমেছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১২০.০৫ কোটি টাকা। এতে প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকায়।
স্থানীয় কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কমেছে। বাণিজ্য কমার কারণে রাজস্ব আদায়ও কমেছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের প্রথম স্থলবন্দর। এখানে আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৫৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করত। এখন সংখ্যাটি কমে ৩০০ থেকে ৩৫০ ট্রাক। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বন্দর দিয়ে ১০ লাখ ১৫ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২৪–২৫ অর্থবছরে ভারত থেকে ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন পণ্য এসেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে রাজস্ব আদায় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০৮ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৫৪৪.০৪ কোটি টাকা। আগস্টে লক্ষ্য ছিল ৪৯৩ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৪৪৭.৯৩ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের লক্ষ্য ৬০১ কোটি টাকা, আদায় ৫১৩.৫৮ কোটি টাকা। অক্টোবরের লক্ষ্য ৬৪৫ কোটি, আদায় ৪৪৯.২৮ কোটি। নভেম্বরের লক্ষ্য ৭৫৫ কোটি, আদায় ৫৬৪.৪১ কোটি। ডিসেম্বরের লক্ষ্য ১,১৩১ কোটি, আদায় মাত্র ৬০০.৮১ কোটি টাকা।
কাস্টমস সূত্র বলছে, সরকারের পরিবর্তনের পর বন্দর দিয়ে আগের তুলনায় শুল্কযোগ্য পণ্যের আমদানি কমেছে। এ কারণে রাজস্ব আদায়ও কম হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের ভিন্ন মত রয়েছে। তারা বলছেন, কাস্টমসের নিচতলার অফিসাররা ঊর্ধ্বতন নির্দেশনা না মেনে পণ্যের শুল্ক বেশি ধার্য করছেন। পাশাপাশি বন্দরের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে আমদানিকারকরা বেনাপোল বন্দর এড়িয়ে অন্য বন্দর ব্যবহার করছেন।
বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: জিয়াউর রহমান বলেন, ‘উচ্চ শুল্কযোগ্য পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় বেনাপোল কাস্টমস হাউজের রাজস্ব আদায় কমেছে।’
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে আমাদের জন্য নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। প্রথম ছয় মাসে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১২০ কোটি টাকা। ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা। তবে আমরা আশাবাদী, বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।’

