মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রায় ১.১ শতাংশ কমে যেতে পারে। এতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশের কাছাকাছি সীমিত থাকতে পারে। এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ।
ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট: বাংলাদেশের প্রভাব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সরকারকে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হতে পারে। এছাড়াও জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
গতকাল বুধবার বিশ্বব্যাংক তাদের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট (এপ্রিল সংস্করণ) প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এতে দারিদ্র্য হ্রাসের গতিও ধীর হতে পারে এবং অনেক মানুষ দারিদ্র্য সীমার বাইরে উঠতে পারবে না।
তাসকিন আহমেদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। এতে তৈরি পোশাক, সিমেন্ট, ইস্পাত এবং ওষুধশিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ খাতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩২,৩৪৮ মেগাওয়াট হলেও গ্যাস সংকট, জ্বালানি ঘাটতি ও আমদানি ব্যয়ের কারণে সরবরাহে চাপ বাড়ছে।
রপ্তানি খাতেও প্রভাব পড়েছে। কনটেইনার প্রতি ভাড়া ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রতি কনটেইনারে ৫০০ থেকে ৪,০০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাসকিন আহমেদ আরও বলেন, এলএনজি আমদানির ৫০–৭৫ শতাংশ কাতারের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম প্রতি ইউনিট ৩০–৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে জ্বালানি আমদানিতে মাসে প্রায় ৮০ কোটি ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।

