বহুজাতিক তামাক কোম্পানি বিএটি বাংলাদেশ পিএলসি-এর নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন কাখাবের বেনিদজে। ২০২৬ সালের ১ মে থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। তিনি এই পদে মনিশা আব্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, যার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল বলে কোম্পানির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
কাখাবের বেনিদজে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন করপোরেট নির্বাহী। তার কর্মজীবন দুই দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত, যার মধ্যে ২৫ বছরেরও বেশি শিল্পখাতের অভিজ্ঞতা এবং ১৫ বছরের বেশি সময় পরিচালনা পর্ষদ পর্যায়ের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভোগ্যপণ্য শিল্পে বিপণন, সরবরাহ ব্যবস্থা, ব্যবসা পরিচালনা এবং সাংগঠনিক রূপান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন দক্ষ ব্যবসায়িক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি বিপণন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বাণিজ্যিক সাফল্য, সাংগঠনিক পরিবর্তন এবং অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।
তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার পরিধিও বেশ বিস্তৃত। তিনি ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য, ককেশাস অঞ্চল—যার মধ্যে আজারবাইজান, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া ও মলদোভা রয়েছে—এবং ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বহুসাংস্কৃতিক ও জটিল ব্যবসায়িক পরিবেশে নেতৃত্ব দেওয়ার এই অভিজ্ঞতা তাকে বৈশ্বিক করপোরেট ব্যবস্থাপনায় বিশেষ দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়া ক্লাস্টারের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই দায়িত্বে তিনি ব্যবসা পুনর্গঠন, টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের মতো বিভিন্ন কৌশলগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন।
২০২৬ সালের ১ মে তিনি বিএটি বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও যুক্ত হন। কোম্পানির মতে, তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তবমুখী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী প্রবৃদ্ধির ধাপকে আরও গতিশীল করবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে কোম্পানির অবদান আরও শক্তিশালী করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষাজীবনে কাখাবের বেনিদজে নির্বাহী ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং ভূদৃশ্য স্থাপত্য বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ১১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ করদাতা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে পেরে তিনি গর্বিত। তিনি দক্ষ কর্মী, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কাজ করে প্রতিষ্ঠানের অর্জিত ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যবসার উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অর্থবহ অবদান রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং বাজার সম্প্রসারণের দিকনির্দেশনাকেও প্রভাবিত করে। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় কাখাবের বেনিদজের নেতৃত্বে বিএটি বাংলাদেশ নতুন ব্যবসায়িক কৌশল, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কার্যক্রমের আধুনিকায়নে আরও গুরুত্ব দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

