সোমবার আদালতে রিটটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত থাকলেও উভয় পক্ষের বক্তব্যের পর বিষয়টি স্থগিত করা হয়। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শুনানি করেন, আর রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, আগের একটি মামলায় তারা আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একই বিষয়ে নতুন রিটের শুনানি এগিয়ে নেওয়া সমীচীন হবে না বলে তারা মত দেয়। আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী শুনানি আপাতত না করার সিদ্ধান্ত দেয়।
রিটকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত বছর হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তীতে অধ্যাদেশ জারি এবং সচিবালয় কার্যক্রম শুরু হয়। তবে পরে আইন পাস করে সেই কাঠামো বাতিল করা হলে নতুন করে আইনি প্রশ্ন ওঠে।
রিটে বলা হয়েছে, বাতিল করা আইনটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা আদালতের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সচিবালয়ের চলমান কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি বর্তমানে আপিল প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে বিচারিক শুনানি এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়। এদিকে সচিবালয় সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাঠামো ইতোমধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। কিছু বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বাজেট বরাদ্দও করা হয়েছে। ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ চলমান রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এখনো বিচারিক ও প্রশাসনিক দুই পর্যায়েই জটিল অবস্থায় রয়েছে। একদিকে আদালতের নির্দেশনা, অন্যদিকে আইন পাস করে কাঠামো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় আইনি বিতর্ক আরও দীর্ঘ হতে পারে।
সার্বিকভাবে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ঘিরে চলমান এই বিরোধ এখন আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সেই সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নতুন কোনো শুনানি শুরু না করার মাধ্যমে পরিস্থিতি আপাতত স্থিতাবস্থায় রয়েছে।