মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে দুপুরে তাকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আদালতে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আসামির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে আটক রাখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামির পক্ষে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানান, অভিযুক্তের দেড় মাস বয়সী শিশু রয়েছে এবং সম্প্রতি তার অস্ত্রোপচার হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।
শুনানি শেষে বিকেলে আদালত থেকে বের করার সময় শিল্পী বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে তার শিশুসন্তানকে কোলে দেওয়া হলে আদালত প্রাঙ্গণেই তাকে শিশুকে দুধ খাওয়াতে দেখা যায়। এরপর শিশুসহ তাকে হাজতখানায় নেওয়া হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত একটি সহিংস ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে তার বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং মামলার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে অভিযুক্তের দাবি, রাজনৈতিক কারণেই তাকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।