Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, এপ্রিল 28, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » মেয়াদ থাকা ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ—কী বলে আইন ও সংবিধান?
    আইন আদালত

    মেয়াদ থাকা ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ—কী বলে আইন ও সংবিধান?

    নিউজ ডেস্কএপ্রিল 28, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোতে ইউনিয়ন পরিষদকে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক একক (administrative unit of the Republic) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী, প্রতিটি ঘোষিত ইউনিয়নকে সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদের সঙ্গে পঠিতব্য ৫৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণে প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক একাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে।

    মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসক নিয়োগ:

    সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ বহাল থাকা অবস্থাতেই আইনগতভাবে নির্বাচিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সাংবিধানিক কাঠামো এবং প্রচলিত আইনি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    প্রশাসক নিয়োগের পূর্ববর্তী বিধান কী বলে:

    স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ১৮(১)-এ প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনো এলাকাকে ইউনিয়ন ঘোষণার পর ওই ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার একজন উপযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেবে। এই প্রশাসক নির্বাচিত পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।

    তবে আইন অনুযায়ী একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রশাসক সর্বোচ্চ ১২০ (একশত বিশ) দিনের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বিশেষ পরিস্থিতি বা দৈব-দুর্বিপাকের কারণে নির্বাচিত পরিষদ গঠন সম্ভব না হলে সরকার অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৬০ (ষাট) দিন সময় বাড়াতে পারবে।

    আইনে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও সেটি নির্দিষ্ট সময় ও শর্তসাপেক্ষ। কিন্তু মেয়াদ থাকা অবস্থায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বদলে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বাভাবিক কাঠামো নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

    ইউনিয়ন পরিষদ আইন সংশোধন নিয়ে নতুন বিতর্ক ও প্রশাসনিক শূন্যতার প্রশ্ন:

    স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইউনিয়ন পরিষদ। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ১৮ সম্প্রতি স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৭ নং আইন) এর মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে।

    সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, কোনো এলাকাকে ইউনিয়ন ঘোষণা করা হলে অথবা ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে সরকার একজন “উপযুক্ত কর্মকর্তা বা উপযুক্ত ব্যক্তি”কে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে। ওই প্রশাসক নির্বাচিত পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

    আগের বিধানে প্রশাসকের দায়িত্বকাল নির্দিষ্ট ছিল। সেখানে বলা ছিল, প্রশাসক সর্বোচ্চ ১২০ দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ৬০ দিন পর্যন্ত সময় বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু ২০২৪ সালের সংশোধনের পর সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা কার্যত তুলে দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে। এতে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়িত্ব ও অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

    সংশোধিত আইনে “উপযুক্ত কর্মকর্তা বা উপযুক্ত ব্যক্তি” নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সুস্পষ্ট মানদণ্ড বা যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা বা গাইডলাইনও উল্লেখ নেই। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি বিস্তৃত প্রশাসনিক বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা বাস্তবে ব্যক্তিভেদে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়ায়। এতে নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    একই ব্যক্তি যদি নিজ মূল প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করেন, তাহলে কাজের বিভাজন তৈরি হতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে জনসেবা প্রদানের গতি ও মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটি কার্যকর প্রশাসন, দক্ষতা এবং জবাবদিহিমূলক শাসনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    সংশোধিত বিধানে প্রশাসকের দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবহেলার ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। এই ধরনের বিধানকে প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে একটি শূন্যতা (accountability vacuum) হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর আইনি কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    বিভাগীয় প্রক্রিয়া ছাড়াই দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে প্রশ্ন:

    সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবস্থায় চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে কার্যক্রম অর্পণের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    দেখা যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মেয়াদ বহাল থাকা অবস্থায় তাদের অনুপস্থিত দেখিয়ে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ১০১ ও ১০২ প্রয়োগ করে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ উঠছে, এ ধরনের দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে কোনো সাময়িক বরখাস্তাদেশ বা আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় পুরো প্রক্রিয়ার আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    আইনে কী বলা আছে:

    স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭৪(১) অনুযায়ী, যদি সরকারের কাছে প্রতীয়মান হয় যে কোনো পরিষদ বা চেয়ারম্যান আইন বা সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, তাহলে সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিতে পারে।

    এরপর ধারা ৭৪(২)-এ বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার কোনো কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ করতে পারে। এছাড়া, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয় পরিষদের তহবিল বা প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব তহবিল থেকে বহনের নির্দেশও থাকতে পারে।

    আইন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধারা ৭৪-এ একটি ধাপে ধাপে অনুসরণযোগ্য প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা আছে। এতে রয়েছে—নির্দেশনা, সময় দেওয়া, কারণ দর্শানোর সুযোগ এবং এরপর প্রয়োজন হলে দায়িত্ব হস্তান্তর। কিন্তু বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে এই ধাপগুলো অনুসরণ না করেই সরাসরি চেয়ারম্যানদের কার্যত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের পদক্ষেপকে আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার পরিপন্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এই ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ন্যায্য বিচারনীতির মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলা হচ্ছে। বিশেষ করে কয়েকটি নীতির লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে—

    শুনানির সুযোগ না থাকা (Audi alteram partem): চেয়ারম্যানদের বক্তব্য শোনার বা কারণ ব্যাখ্যার সুযোগ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ন্যায্য বিচারনীতির পরিপন্থী হয়।

    স্বেচ্ছাচারিতা রোধের নীতি ভঙ্গ: আইনে নির্ধারিত ধাপ অনুসরণ না করে সরাসরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপকে স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা প্রয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    যুক্তিসম্মত কারণ না থাকা: প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে লিখিত ও স্পষ্ট কারণ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

    যুক্তিসংগত প্রত্যাশা ক্ষুণ্ণ হওয়া: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া দায়িত্ব হারাবেন না—এমন প্রত্যাশা থাকে। সেই প্রত্যাশা ভঙ্গ হলে তা প্রশাসনিক আস্থার সংকট তৈরি করে।

    বাংলাদেশের স্থানীয় শাসনব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে উঠেছে সংবিধানে নির্ধারিত কিছু মৌলিক নীতি ও বিধানের ওপর। এসব বিধান স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় গণতন্ত্র, জনগণের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিশ্চিত করার দিকেই ইঙ্গিত করে।

    সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। এখানে রাষ্ট্রের সব স্তরে শাসনব্যবস্থা এমনভাবে পরিচালিত হবে যাতে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রশাসনিক কাঠামোর ভিত্তি হলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন।

    সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে স্থানীয় শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনভার আইন অনুযায়ী গঠিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যস্ত থাকবে, যা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে। এই বিধান স্থানীয় পর্যায়ে শাসন ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন থেকে পৃথক করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত করার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেয়।

    সংবিধানের ৬০ অনুচ্ছেদে সংসদকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও সক্ষমভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে তাদের দায়িত্ব স্বাধীনভাবে এবং কার্যকরভাবে পালন করতে পারে তা নিশ্চিত করা।

    সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদে “প্রশাসনিক একাংশ” শব্দটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ৫৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত সব প্রশাসনিক এলাকা এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত। এটি স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার সাংবিধানিক পরিধি ও কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    উপরের সব অনুচ্ছেদ একত্রে বিশ্লেষণ করলে একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক নীতি সামনে আসে। তা হলো—স্থানীয় শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি হবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ। এছাড়া প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা অপরিহার্য।

    আদালতের সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় সরকার কাঠামো নিয়ে ব্যাখ্যা:

    স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা এসেছে Kudrat-e-Elahi Panir v. Bangladesh মামলায়।

    আপিল বিভাগ এ মামলায় পর্যবেক্ষণ করেন যে, সংবিধানের ৯, ১১ এবং ৫৯ অনুচ্ছেদের আলোকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর একটি অপরিহার্য অংশ। আদালতের মতে, সংসদ স্থানীয় সরকার কাঠামো পরিবর্তন বা পুনর্গঠন করতে পারলেও পুরো ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করা যায় না। আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কোনো স্থানীয় সরকার স্তর বিলুপ্ত হলেও তার ক্ষমতা কোনো অ-নির্বাচিত ব্যক্তি বা সংস্থার হাতে—এমনকি সাময়িক সময়ের জন্যও—হস্তান্তর করা যাবে না।

    এই বিচারিক ব্যাখ্যার আলোকে বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ চলাকালীন নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ এবং তাদের মাধ্যমে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা সংবিধান ও আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ একটি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এখানে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

    অতএব, মেয়াদ চলমান থাকা অবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যত সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দিলে তা প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন কাঠামোর মূল ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

    সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় শাসনের সব স্তরে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ৫৯ অনুচ্ছেদে স্থানীয় শাসনব্যবস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালনার বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৬০ অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য সংসদকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই তিনটি অনুচ্ছেদ একত্রে স্থানীয় শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করে।

    উপরের সাংবিধানিক বিধান ও আদালতের ব্যাখ্যা মিলিয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতি দাঁড়ায়—স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের শাসন। এই কাঠামোর বাইরে গিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিকল্পভাবে ক্ষমতা পরিচালনা করা হলে তা প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন ব্যবস্থার ভারসাম্য দুর্বল করতে পারে।

    ফলে মেয়াদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের পাশ কাটিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া সংবিধানের ১১, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের মূল চেতনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যুক্তি তৈরি হয়।

    মোঃ মনিরুল ইসলাম মিয়া: আইনজীবী, বাংলাদেশসুপ্রিমকোর্ট।

    সিভি/এম

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আইন আদালত

    জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস আজ

    এপ্রিল 28, 2026
    আইন আদালত

    সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের পাঁচ মামলায় জামিন বহাল

    এপ্রিল 28, 2026
    ব্যাংক

    ইউনিয়ন ব্যাংকে কাগুজে কোম্পানির মাধ্যমে ২০ হাজার কোটি টাকা লোপাট

    এপ্রিল 28, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.