ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের যেসব আইন বর্তমান বাস্তবতায় অকার্যকর বা অপ্রাসঙ্গিক, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন বা নতুনভাবে প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের পর স্বাধীন বাংলাদেশে একটি সুসংগঠিত আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে ১৯৭৩ সালে ‘দ্য বাংলাদেশ ল’স (রিভিশন অ্যান্ড ডিক্লারেশন) অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে কার্যকর থাকা আইন, রাষ্ট্রপতির আদেশ এবং সংসদীয় আইনসমূহ পর্যালোচনা, সংশোধন ও কিছু ক্ষেত্রে বাতিল করে একটি একীভূত কাঠামো তৈরি করা হয়।
তিনি আরও জানান, সে সময় যেসব আইন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক বা অকার্যকর ছিল, সেগুলো বাতিল করা হয় এবং কিছু আইনকে বাংলাদেশের আইনের অংশ হিসেবে গণ্য না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় অনেক আইন সংশোধন করা হয়েছে এবং নতুন বাস্তবতার আলোকে নতুন আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে।
তবে এখনো ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের কিছু আইন রয়ে গেছে, যেগুলো বর্তমান পরিস্থিতিতে অপ্রাসঙ্গিক বা অকার্যকর। সেগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে পর্যায়ক্রমে সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে। এ কাজের জন্য ল’ কমিশন কাজ করছে এবং তাদের সুপারিশ পাওয়ার পর সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। এদিকে একই দিনে সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলোও ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অন্য এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি বলেন, মামলার এজাহারে সাধারণত দলীয় পরিচয় উল্লেখ না থাকায় বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক বা মিথ্যা মামলার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। এ বিষয়ে সরকারের কাছে নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার পৃথক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

