পবিত্র ঈদুল আজহা, সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক অবকাশকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৭টি অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। অবকাশকালীন সময়ে এসব বেঞ্চ অতীব জরুরি মামলা শুনানি ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব পালন করবে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ সংক্রান্ত আদেশ ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৩৫ নম্বর গঠনবিধির ক্ষমতাবলে গত ২০ মে প্রধান বিচারপতির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বেঞ্চগুলো গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২২ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ে আগামী ২৪ মে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ৪ জুন পর্যন্ত অবকাশকালীন বেঞ্চগুলো নির্ধারিত এখতিয়ার অনুযায়ী জরুরি দেওয়ানি, ফৌজদারি, রিট ও আদিম অধিক্ষেত্রের মামলার শুনানি করবে।
যেসব বেঞ্চ দায়িত্ব পালন করবে:
প্রথম বেঞ্চটি হচ্ছে দেওয়ানি আপিল ও রিভিশন মোশন সংক্রান্ত ডিভিশন বেঞ্চ। এতে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুর দায়িত্ব পালন করবেন। এই বেঞ্চে জরুরি দেওয়ানি মোশন, প্রথম আপিল, প্রবেট সংক্রান্ত আপিল, শালিশি আইন, দেউলিয়া আইন ও বার কাউন্সিল বিষয়ক মামলার শুনানি হবে। পাশাপাশি ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারির আগে দায়ের হওয়া বা চলমান সব ধরনের দেওয়ানি মামলাও এই বেঞ্চে নিষ্পত্তি করা হবে।
দ্বিতীয় বেঞ্চে থাকছেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসান। এই ডিভিশন বেঞ্চ ভ্যাট, আয়কর, কাস্টমস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অর্থঋণ আইন, ট্রেডমার্ক, প্যাটেন্ট ও আদালত অবমাননা সংক্রান্ত জরুরি রিট শুনানি করবেন।
তৃতীয় বেঞ্চে বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি শেখ আবু তাহের দায়িত্ব পালন করবেন। এই বেঞ্চে দুদক আইন, মানি লন্ডারিং আইন, ফৌজদারি আপিল, জামিন আবেদন ও জরুরি ফৌজদারি রিভিশন শুনানি হবে।
চতুর্থ বেঞ্চে থাকছেন বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মনজুর আলম। এই বেঞ্চ ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, কাস্টমস, আয়কর ও অর্থঋণ সংক্রান্ত রিট এবং কাস্টমস আইনের অধীন আপিল শুনানি করবেন।
পঞ্চম বেঞ্চ হিসেবে গঠন করা হয়েছে দেওয়ানি একক বেঞ্চ। বিচারপতি মো. আলী রেজা এই বেঞ্চ পরিচালনা করবেন। ছয় কোটির নিচের দেওয়ানি মামলা, নির্বাচন সংক্রান্ত আবেদন, দ্বিতীয় আপিল ও জরুরি দেওয়ানি রিভিশন এই বেঞ্চে শুনানি হবে। একই সঙ্গে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারির আগে দায়ের হওয়া চলমান দেওয়ানি মামলাও এই বেঞ্চে নিষ্পত্তি করা হবে।
ষষ্ঠ বেঞ্চে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ এককভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। দুদক ও মানি লন্ডারিং আইন ছাড়া অন্যান্য ফৌজদারি মোশন, জামিন, আপিল ও রিভিশন মামলার শুনানি এই বেঞ্চে হবে।
সপ্তম বেঞ্চ হিসেবে আদিম অধিক্ষেত্র, কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। বিচারপতি মো. তৌফিক ইনাম এই বেঞ্চ পরিচালনা করবেন। কোম্পানি আইন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, বীমা আইন, বিবাহ বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও অ্যাডমিরালটি বিষয়ক জরুরি আবেদন ও আপিল এখানে শুনানি করা হবে।
আইনজীবীদের মতে, দীর্ঘ অবকাশের সময়েও জরুরি মামলার বিচারিক কার্যক্রম সচল রাখতে অবকাশকালীন বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে জামিন, রিট ও জরুরি দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে এসব বেঞ্চ বিচারপ্রার্থীদের জন্য স্বস্তি এনে দেয়।

