বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর ‘ত্রিশ গোডাউন’ ঘাটের পর এবার কাউনিয়া থানার তালতলী শিশু পার্ক দখলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আদালত। বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ‘জাস্টিস অব দ্য পিস’ এস. এম. শরিয়ত উল্লাহ স্ব-প্রণোদিত হয়ে এ বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন।
টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনি স্ব-উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেন। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ সালের ২৫ ধারা অনুযায়ী মিস কেস নং ০৩/২০২৬ রুজু করা হয়।
আদালতের আদেশে বলা হয়, বরিশাল মহানগরের কাউনিয়া থানাধীন আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন তালতলী শিশু পার্কটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে। গত ৩০ মে ২০২৬ তারিখে একাত্তর টেলিভিশনে ‘ব্যবসায়ীদের দখলে শিশু পার্ক’ শিরোনামে প্রচারিত প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে দেখা যায়, তিন থেকে চার বছর ধরে পার্কটি শিশুদের জন্য উন্মুক্ত না থেকে বালু ও পাথরের স্তূপ এবং মাছের ব্যবসায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে জেলা পরিষদের প্রশাসকও স্বীকার করেন যে শিশুদের বিকাশের জন্য পার্কটি আগের পরিবেশে ফিরিয়ে আনা জরুরি। বিচারক তাঁর আদেশে উল্লেখ করেন, সরকারি জমিতে নির্মিত শিশুদের বিনোদনকেন্দ্রে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনস্বার্থে আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন। আদালত কয়েকটি কঠোর নির্দেশনা দেন।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে উচ্ছেদ নির্দেশ: কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদেশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পার্কের ভেতরের সব অবৈধ স্থাপনা, বালু, পাথর ও বাণিজ্যিক মালামাল অপসারণ করে আদালতকে লিখিতভাবে জানাতে।
উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ: বরিশালের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদমর্যাদার নিচে নন এমন একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে পুরো ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে। আগামী ২২ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনে পাঁচটি বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দিতে বলা হয়েছে।
১. পার্কটি সরকারি সম্পত্তি কি না
২. কেউ উন্নয়ন বা পরিচালনার দায়িত্বে আছে কি না
৩. সেখানে বালু, পাথর, মাছ বা অন্য কোনো ব্যবসা চলছে কি না
৪. কারা অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িত
৫. সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে
আদেশে আরও বলা হয়, এর আগে একাধিকবার অবৈধ বাজার উচ্ছেদ করা হলেও পরে পুনরায় দখল হয়েছে। অভিযোগ সত্য হলে তা দণ্ডবিধির ২৬৮, ৪২৭, ৪৩১, ৪৪১ ধারা এবং ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ৭, ১০, ১১ ও ১২ ধারায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
তদন্ত কর্মকর্তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারা অনুযায়ী সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ, ঘটনাস্থল ও সময় নির্ধারণ এবং জড়িতদের নাম-ঠিকানাসহ খসড়া মানচিত্র প্রস্তুত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
আদেশের অনুলিপি বরিশাল মহানগর দায়রা জজ, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, জেলা পরিষদ প্রশাসক এবং কাউনিয়া থানার ওসির কাছে পাঠানো হয়েছে।

