নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ জুন থেকে নারী ও শিশুবিষয়ক মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য পৃথক বিশেষ বেঞ্চ বসতে পারে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রবিবার এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের জানান, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকায় দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। এ সময় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও সালাহ উদ্দিন দোলনও একই মতামত ব্যক্ত করেন। আলোচনার একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি এ ধরনের মামলার শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের বিষয়ে সম্মতি দেন বলে জানা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও নারী নির্যাতনের একাধিক আলোচিত ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর বিচারপ্রক্রিয়ার গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, নিম্ন আদালতে রায় হলেও ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার এবং সমাজ কাঙ্ক্ষিত বিচার পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনতে বাধ্য হয়।
রামিসা হত্যা মামলায় রবিবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন। বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত মামলার দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারার আওতায় সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন।
রায়ে একজন আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা এবং অপর আসামিকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এছাড়া নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে দণ্ডিতদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সেই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবীরা মনে করছেন, বিশেষ বেঞ্চ চালু হলে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষা কমবে, অন্যদিকে গুরুতর অপরাধের মামলাগুলোতে বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়বে। বিশেষ করে শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

