ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ৬১ জন আইনজীবী। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে পরে জামিনে মুক্তি পান।
গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত এসব আইনজীবী। মানববন্ধনে তারা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করেন। আইনজীবীরা জানান, চলতি বছরের ৬ জুন ‘কারামুক্তি দিবস’ পালনের পরিকল্পনা থাকলেও অন্য একটি অনুষ্ঠানের কারণে তা করা সম্ভব হয়নি। তাই মঙ্গলবার মানববন্ধনের মাধ্যমে সেই দিবসের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়।
আইনজীবী লিখন তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নির্বাচন ও মামলা পরিচালনায় অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি এসব ঘটনার নিন্দা জানান এবং কারাগারে থাকা আইনজীবীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি তোলেন।
অন্যদিকে আইনজীবী লিটন মিয়া বলেন, গত বছরের ৬ এপ্রিল ৬১ জন আইনজীবীকে বিনা অপরাধে কারাগারে পাঠানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, ৬ জুন তারা কারামুক্ত হন। সেই দিনটিকে স্মরণে রাখতে ‘কারামুক্তি দিবস’ পালন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আইনজীবীদের বেআইনিভাবে কারাগারে পাঠানোর জন্য মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার হওয়া উচিত।
মামলার নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে জুলাই আন্দোলন চলাকালে আসামিরা ঢাকা আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে বেআইনি জনতাবদ্ধে অংশ নেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সময় এক আইনজীবীর ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি তাক করা হয়।
এ ঘটনায় পরে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে গত বছরের ৬ এপ্রিল ৬১ জন আইনজীবী আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রায় দুই মাস কারাভোগের পর তারা জামিনে মুক্তি পান।

