রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির আপিল ও মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন সংক্রান্ত শুনানির প্রক্রিয়া নতুন ধাপে পৌঁছেছে। মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ায় যে কোনো সময় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে শুনানি শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পেপারবুক ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়ে আদালতে পৌঁছেছে। বর্তমানে নথিগুলো যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কাজ চলছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে মামলাটি শুনানির জন্য বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে।
আইনজীবীদের মতে, মৃত্যুদণ্ডের মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো পেপারবুক প্রস্তুতকরণ। মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য, আলামত, বিচারিক পর্যবেক্ষণ এবং নিম্ন আদালতের রায়ের বিস্তারিত তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে। উচ্চ আদালতে শুনানির সময় বিচারকরা এসব নথির ভিত্তিতেই মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন।
এর আগে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষ থেকে দায়ের করা আপিলও বিচারাধীন রয়েছে। ফলে উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন এবং আপিল—দুই বিষয়ই একসঙ্গে শুনানির আওতায় আসবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। তাই নিম্ন আদালতের রায় ঘোষণার পরও মামলাটি একাধিক বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে। উচ্চ আদালত প্রয়োজন মনে করলে রায় বহাল রাখতে, পরিবর্তন করতে কিংবা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মামলাটি দেশের আলোচিত অপরাধ মামলাগুলোর একটি হওয়ায় এর বিচারিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উচ্চ আদালতে শুনানির সময় তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্যপ্রমাণ, ফরেনসিক তথ্য এবং বিচারিক নথিপত্র বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ায় মামলার শুনানি শুরুতে আর বড় কোনো প্রশাসনিক বাধা নেই। এখন বেঞ্চ নির্ধারণ ও শুনানির তারিখ তালিকাভুক্ত হওয়ার অপেক্ষা।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া বিচারপ্রার্থীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের রায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের বিচারিক দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, মামলার সব তথ্য-উপাত্ত ও আইনগত দিক পর্যালোচনার মাধ্যমে উচ্চ আদালত দ্রুত শুনানি সম্পন্ন করবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে যাবে।

