দেশের বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মামলাজট। বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা অসংখ্য মামলার কারণে বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। সেই বাস্তবতায় পুরোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির খবর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চে পরিচালিত বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় একদিনেই মোট ২ হাজার ৪১১টি পুরোনো মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এদিন ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চগুলোতে ১ হাজার ৬৫৫টি পুরোনো ফৌজদারি মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। একই দিনে রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে আরও ৭৫৬টি পুরোনো রিট মামলার শুনানি শেষ করে নিষ্পত্তি দেওয়া হয়। ফলে মাত্র এক কার্যদিবসেই মোট ২ হাজার ৪১১টি মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে।
শুধু একদিনের সাফল্যই নয়, বিশেষ এই কার্যক্রম শুরুর পর থেকে মামলাজট কমানোর ক্ষেত্রে ধারাবাহিক অগ্রগতিও দেখা যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ছয়টি কার্যদিবসে মোট ১৯ হাজার ৮৩৬টি পুরোনো ফৌজদারি মিস মামলা এবং ৬ হাজার ৭২৪টি পুরোনো রিট মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে এ সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৬ হাজার ৫৬০টি পুরোনো মামলা।
এই বিশেষ উদ্যোগ শুরু হয় গত ৭ মে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চগুলো প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত একদিন শুধু দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন পুরোনো মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুনানি ও নিষ্পত্তি করছে। এর মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, বিচারপ্রার্থীদের জন্য দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলাজট কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘসূত্রতা কমলে আদালতের ওপর চাপও কমবে, নতুন মামলার শুনানিও দ্রুত এগোবে এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও আরও বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি করলেই হবে না, একই সঙ্গে নতুন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিচারক, আদালতের জনবল, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় নতুন করে আবারও মামলাজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এই বিশেষ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, গতিশীল এবং বিচারপ্রার্থীবান্ধব করে তুলতেই এই উদ্যোগ চালিয়ে নেওয়া হবে।

