বার্ষিক চাঁদা ও অন্যান্য বকেয়া ফি দীর্ঘদিন পরিশোধ না করায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ৭৪০ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁদের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত (সিজড) করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের ‘লিন’ স্থগিতেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সমিতির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘চিটাগং ডিস্ট্রিক্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের মিউচুয়াল বেনিফিট ফান্ড ব্যবস্থাপনা ও বিতরণ বিধিমালা, ১৯৯৪’-এর ৬ নম্বর বিধির আলোকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যেসব সদস্য টানা তিন বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সমিতির নির্ধারিত বার্ষিক চাঁদা ও অন্যান্য বকেয়া ফি পরিশোধ করেননি, তাঁদের জন্য ২০ শতাংশ জরিমানাসহ বকেয়া পরিশোধের শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে ৭ জুন ২০২৬ এবং ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে পৃথক নোটিশ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়।
সমিতি জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পর অনেক সদস্য তাঁদের বকেয়া পরিশোধ করে সদস্যপদ নিয়মিত করলেও ৭৪০ জন সদস্য নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেও কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি। এ কারণে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারে ওই ৭৪০ জন সদস্যের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের ‘লিন’ও স্থগিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বকেয়া পরিশোধ না করা সদস্যদের নামে যদি সমিতির কোনো চেম্বার বরাদ্দ থেকে থাকে, তবে বকেয়া না দেওয়ার কারণে সেই চেম্বার বরাদ্দও অবিলম্বে বাতিল করা হবে।
তবে যেসব সদস্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই বকেয়া পরিশোধ করেছেন কিন্তু তাঁদের নাম প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে, তাঁদের দ্রুত সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে জমার রসিদ প্রদর্শনের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সমিতির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বকেয়া চাঁদা আদায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সমিতির আর্থিক শৃঙ্খলা শক্তিশালী হবে।

