Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, জুলাই 11, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » কারাগারে দীর্ঘ হচ্ছে সাবেক ক্ষমতাধরদের বন্দিজীবন
    আইন আদালত

    কারাগারে দীর্ঘ হচ্ছে সাবেক ক্ষমতাধরদের বন্দিজীবন

    মনিরুজ্জামানUpdated:জুলাই 11, 2026জুলাই 11, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান শুধু সরকারের পতনই ঘটায়নি, বদলে দেয় দেশের রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতাও। ক্ষমতা হারানোর পর একে একে গ্রেপ্তার হন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতারা। একই সঙ্গে সাবেক সরকারের উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা, আমলা, সাবেক স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তিও আইনের আওতায় আসেন।

    জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তিতে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও অন্যান্য নেতাদের বড় একটি অংশ এখনও কারাগারে রয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কারাজীবন আরও দীর্ঘ হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

    এদিকে, জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা ছয়টি মামলার রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব মামলার রায়ের ফলে কারাগারে থাকা সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী-এমপি এবং পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে দণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে গত ১৬ বছরে গুম, হত্যা এবং জুলাইয়ের সহিংসতার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

    অন্যদিকে, ঢাকার বিভিন্ন নিম্ন আদালতে বিচারাধীন শত শত মামলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৩টির অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় চার্জ গঠনের পর আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর অপেক্ষা চলছে। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে মাত্র ১১ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। একই সময়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন সাবেক দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে ১০৭ জন বন্দি রয়েছেন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে, আবার কারও বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা শতকের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

    সম্প্রতি সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর একই ধরনের মামলায় আটক অন্য নেতাদের আইনজীবীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

    এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত মামলাগুলো সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করছে। তাদের দাবি, এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

    কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে ১০৭ জন বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৩ জন সাবেক এমপি এবং ৩৪ জন সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এ পর্যন্ত এই শ্রেণির বন্দিদের মধ্যে মাত্র ১১ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

    তিনি জানান, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য ৭১ জনকে কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে ৪১ জন সাবেক এমপি এবং ৩০ জন সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। অন্য বন্দিদের কেউ গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে, আবার কেউ নিজ নিজ মামলার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলার কারাগারে আটক আছেন।

    জামিনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর গ্রেপ্তারের মাত্র দুই দিনের মাথায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত থেকে চারটি মামলায় জামিন পান সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। জুলাই আন্দোলনের পর গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের মধ্যে তিনিই প্রথম জামিন লাভ করেন। তার জামিন সে সময় রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

    এ সময় বিভিন্ন মহলে তার জামিনের পেছনে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের সুপারিশ ছিল—এমন দাবি বা গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতার আইনজীবী আদালতে জামিন শুনানিতে সাবের হোসেন চৌধুরীর মামলার উদাহরণ তুলে ধরেন। এর দুই দিন পর জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় সুনামগঞ্জের আদালত থেকে জামিন পান সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। প্রায় ২০ দিন কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর তিনি মুক্তি লাভ করেন।

    পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনায় সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিককে জামিন দেন স্থানীয় আদালত। এরপর ২৪ নভেম্বর ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ারদার এবং ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক এমপি তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে কারামুক্ত হন।

    এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট ১২টি মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পান সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। প্রায় তিন মাস কারাবাসের পর একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

    অন্যদিকে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় প্রায় আড়াই মাস কারাগারে থাকার পর হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন আওয়ামী লীগের সাবেক পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    চলতি বছরের ৭ এপ্রিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী। গ্রেপ্তারের পর উচ্চ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রটোকলে থাকা একজন সাবেক স্পিকারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। তবে গ্রেপ্তারের পাঁচ দিনের মাথায়, ১২ এপ্রিল, শারীরিক অসুস্থতার কারণ বিবেচনায় আদালত তাকে জামিন দেন এবং তিনি কারামুক্ত হন।

    এরপর সর্বশেষ গত ১৬ জুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও মন্ত্রীদের মধ্যে মোট আটজন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

    অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০২৫ সালের ৯ মে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ৩ জুন হাইকোর্ট থেকে ১০টি মামলায় জামিন লাভ করেন এবং কারাগার থেকে মুক্তি পান। তার জামিনের পর আওয়ামী লীগের আটক নেতাদের আইনজীবীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হলেও বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন নাকচ হচ্ছে। ফলে অনেক আইনজীবী এখন জামিনের জন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

    এদিকে, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিচারিক অগ্রগতিও দ্রুত এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বহু মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে এবং অভিযোগপত্র প্রস্তুত রয়েছে। ঢাকার মহানগর এলাকার নিম্ন আদালতে ইতোমধ্যে ৪৩টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এখন এসব মামলায় চার্জ গঠনের পর আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়ার অপেক্ষা।

    একই সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলার নিষ্পত্তি করছে। এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। প্রথম রায়টি দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর। ওই রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তারা বর্তমানে পলাতক হিসেবে বিবেচিত।

    এরপর গত ৫ ফেব্রুয়ারি সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানো এবং সাতজনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সর্বশেষ ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলাটিতে জুলাই আন্দোলন দমনে নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। বর্তমানে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কারাগারে থাকা একমাত্র সাবেক মন্ত্রী তিনি। অন্যদিকে, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আরও কয়েকজন দণ্ডিত হলেও তারা পলাতক রয়েছেন।

    কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কারাগারে থাকা আলোচিত সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন আনিসুল হক, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, জুনাইদ আহমেদ পলক, আমির হোসেন আমু, কামরুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, ফরহাদ হোসেন, জাকির হোসেন, আরিফ খান জয়, ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম, গোলাম দস্তগীর গাজী, টিপু মুনশি, সাধন চন্দ্র মজুমদার, শাহজাহান খান, ডা. এনামুর রহমান, জাহিদ ফারুক শামীম, উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, নূরুল ইসলাম সুজন, মাহবুব আলী, শহীদুজ্জামান সরকার, নুরুজ্জামান আহমেদ, দীপংকর তালুকদার এবং আব্দুস শহীদ।

    কারা সূত্র জানায়, তারা সবাই ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে বিশেষ সুবিধার আওতায় রয়েছেন। নিরাপত্তা জোরদার করতে তাদের অধিকাংশকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাসম্পন্ন অংশে রাখা হয়েছে। সেখানে দায়িত্ব পালনের জন্য দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কারারক্ষীদের নির্বাচন করে মোতায়েন করা হয়েছে।

    কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যদের তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাদেক খান, ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, হাজী সেলিম, সোলাইমান সেলিম, আব্দুর রহমান বদি, ইকরামুল করিম চৌধুরী, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, আলী আজম মুকুল, কাজী জাফর উল্যাহ, শাহজাহান ওমর, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, শাহে আলম তালুকদার, নাসিমুল আলম, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, কামরুল আশরাফ খান পোটন, গোলাম কিবরিয়া টিপু, আব্দুল্লাহ আল জ্যাকব, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, মোরশেদ আলম এবং সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।

    কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের অধিকাংশই ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে নারী রাজনীতিকদের মধ্যে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ কারাগারে বন্দি। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, মাসুদা সিদ্দিক রোজী এবং সাফিয়া খাতুন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

    গত দুই বছরে কারাগারে থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের সাবেক দুই মন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। পরে ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অসুস্থ হয়ে দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন।

    এদিকে, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টে বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ব্যারিস্টার সুমনের আইনজীবী লিটন আহমেদের দাবি, ওই আলোচনায় ২০২৪ সালের পর গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন রাজনীতিকের কারাবাসের সময় খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সুবিধার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে। আইনজীবী লিটন আহমেদ আরও জানান, ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে বর্তমানে আটটি মামলা রয়েছে।

    অন্যদিকে, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে ৬০টির বেশি মামলা রয়েছে বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের ৬ অক্টোবর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাজিরার সময় তিনি কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা রয়েছে এবং অসুস্থতা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ডা. দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সল ইসলাম জানান, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে প্রায় ৭০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, নিম্ন আদালত থেকে এখন পর্যন্ত জামিন না পাওয়ায় ২০টি মামলায় হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় জামিন মিললেও পরে দুটি স্থগিত হয় এবং বাকি ১৭টি আবেদন এখনও রুল পর্যায়ে রয়েছে।

    আইনজীবীর দাবি, অভিযোগ গঠনের আগেই এত দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা কোনো সাবেক নারী মন্ত্রীর নজির নেই। তিনি আরও বলেন, ডা. দীপু মনি গুরুতর অসুস্থ এবং কারাবন্দি অবস্থায় একাধিকবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বিপুলসংখ্যক মামলার কারণে জামিন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে তার আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ৮০টির বেশি মামলার আসামি পলক দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন এবং বন্দিজীবনের চাপ তার ওপর স্পষ্টভাবে প্রভাব ফেলছে। তারা আরও বলেন, কারাগারে তাকে আবেগাপ্লুত হতে এবং অন্যদের কাছে দোয়া চাইতেও দেখা গেছে।

    পলক, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির পক্ষে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের অনেকেই কারাগারে রয়েছেন। তার ভাষ্য, জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে ৮৬ থেকে ৮৭টি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, তার মক্কেলরা অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। একাধিকবার জামিনের আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি। তবে আদালতের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

    আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমীন চৌধুরী এবং সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্ত হওয়ার পর অন্যদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত আসবে বলে তারা আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে অল্প কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ আসামি এখনও কারাগারেই রয়েছেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন জামিন না পাওয়ায় তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং মানবাধিকার প্রশ্নও সামনে আসছে।

    তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় রাষ্ট্রপক্ষ। ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত মামলাগুলো সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করছে। তার বক্তব্য, তদন্ত কর্মকর্তারা সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিচ্ছেন এবং যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

    মামলাগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, আদালতে প্রায় ৪২টি মামলার অভিযোগপত্র জমা হয়েছে। অধিকাংশ মামলাই বর্তমানে চার্জ গঠন শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। একটি মামলায় ইতোমধ্যে চার্জ গঠনের শুনানি চলমান রয়েছে।

    একই ধরনের মামলায় কেউ জামিন পাচ্ছেন, আবার কেউ পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। বিচারক মামলার তথ্য-প্রমাণ, অভিযোগের ধরন এবং আইনগত বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেন। এ প্রক্রিয়ায় সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

    একই ধরনের মামলায় একজন আসামি জামিন পেলেও অন্যজন কেন কারাগারেই থাকছেন—এমন প্রশ্ন নিয়ে আইনি বিশ্লেষণ দিয়েছেন সাবেক জেলা জজ ও জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব মো. শাহজাহান সাজু।

    তিনি বলেন, হত্যা বা হত্যা চেষ্টার মতো ফৌজদারি মামলায় সব আসামির ভূমিকা এক রকম হয় না। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি (পেনাল কোড), ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের আলোকে আদালত প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও সম্পৃক্ততার মাত্রা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করেন।

    তার ব্যাখ্যায়, জামিনের আবেদন নিষ্পত্তির সময় আদালত শুধু মামলার ধারা নয়, বরং তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ, তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন, সহআসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক উপাদান বিবেচনায় নেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে একই মামলায় একজনের জামিন মঞ্জুর হলেও অন্যজনের আবেদন খারিজ হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, মামলার চূড়ান্ত রায়ের ক্ষেত্রে আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য, আইনজীবীদের যুক্তি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ উপস্থাপিত সব ধরনের প্রমাণ মূল্যায়ন করেন। বিচার শেষে কেউ অভিযোগ থেকে খালাস পান, আবার কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হন।

    মো. শাহজাহান সাজুর মতে, কিছু ক্ষেত্রে বিচার শুরুর আগেই কোনো আসামিকে জামিন দিলে তদন্ত বা সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। সে কারণেও আদালত অনেক সময় জামিন আবেদন নাকচ করেন। তার ভাষ্য, এসব সিদ্ধান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং প্রতিটি মামলার বাস্তবতা ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

    দুই বছরে কারাগারের দেয়াল বদলায়নি, কিন্তু বদলেছে অনেক রাজনৈতিক বাস্তবতা। তবু শতাধিক সাবেক মন্ত্রী-এমপি এখনও অপেক্ষা করছেন আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য। সেই অপেক্ষার শেষ কোথায়—জামিনে, খালাসে নাকি দণ্ডে—তার উত্তর সময় ও বিচারিক প্রক্রিয়াই দেবে। সূত্র: কালবেলা

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন: কীভাবে একটি বিভক্ত জোট স্থায়ী যুদ্ধ অর্থনীতিকে ইন্ধন জোগাচ্ছে?

    জুলাই 11, 2026
    আন্তর্জাতিক

    যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থাগুলো কীভাবে ইসরায়েলে অভিবাসনকে উৎসাহিত করে?

    জুলাই 11, 2026
    আইন আদালত

    আওয়ামী লীগ আমলের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহতদের তথ্য প্রকাশে আইনি নোটিশ

    জুলাই 11, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram
    ‘হাম ব্যবস্থাপনায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ কি পর্যাপ্ত ছিল, আপনি কি মনে করেন?

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.