বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন চেয়ে বিফল হলেন সরকারি কর্ম কমিশনের এক কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটির প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের একজন বেঞ্চ সহকারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন আসামি কৌশিক দেবনাথ নিজে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাঁর পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। আবেদনে দাবি করা হয়, মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং তিনি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত জুলাই মাসে হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তাঁকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার প্রেক্ষিতেই আজ তিনি আদালতে হাজির হন।
এই মামলার সূত্রপাত হয় গত বছরের জুলাই মাসে, যখন রাজধানীর একটি থানায় সরকারি কর্ম কমিশন আইনে অপরাধ তদন্ত বিভাগের একজন উপপরিদর্শক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সরাসরি ৩১ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও পঞ্চাশ থেকে ষাট জনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের মে মাসে মোট পঞ্চান্ন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশ্নফাঁসচক্রের মূল হোতার নেতৃত্বে পরীক্ষা শুরুর আগেই বাছাই করা প্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন ও তার উত্তর পৌঁছে দেওয়া হতো। প্রার্থীদের নির্দিষ্ট গোপন স্থানে ডেকে নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো, এরপর তাঁদের পরীক্ষার কেন্দ্রে পাঠানো হতো। এই সুবিধা পাওয়ার বিনিময়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে আগেভাগেই মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, এই চক্রের বিস্তৃতি ছিল দেশের বিভিন্ন জেলায়, আর এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী, কমিশনের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসা পেশার মানুষ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তি। অভিযোগপত্রে এ–ও বলা হয়েছে যে, চক্রটির নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা মুদ্রণালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংগঠন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থেকে চক্রটি রাষ্ট্রীয় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
আইনি বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ পরীক্ষায় এ ধরনের সংঘবদ্ধ প্রতারণা শুধু ভুক্তভোগী প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকারই ক্ষুণ্ন করে না, বরং পুরো সরকারি নিয়োগব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাও দুর্বল করে তোলে। তাই এ ধরনের মামলায় দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা।

