Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, জুলাই 24, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » শূন্যরেখায় নারী-শিশু—পুশ-ইন নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন কী বলে?
    আইন আদালত

    শূন্যরেখায় নারী-শিশু—পুশ-ইন নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন কী বলে?

    মনিরুজ্জামানUpdated:জুলাই 23, 2026জুলাই 23, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    সীমান্তের কাঁটাতারের এপারে-বাইরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই বদলে যাচ্ছে অনেক মানুষের জীবন। হাতে নেই পরিচয়পত্র, নেই নাগরিকত্বের প্রমাণ। তারা ভারতীয়, নাকি বাংলাদেশি—তা নিশ্চিত নয়। অথচ নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের একটি দলকে সীমান্তে এনে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে ভারতের বিরুদ্ধে।

    বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বাধা দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ফলে দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখাই হয়ে উঠছে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

    সীমান্তে এমন পরিস্থিতিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে উত্তেজনা। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পরিচয়হীন বা বিতর্কিত নাগরিকত্বের মানুষদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বিজিবি বাধা দিলে অনেক সময় তারা আটকা পড়ছেন দুই দেশের মাঝের শূন্যরেখায়।

    এমন একটি ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে। গত ৫ জুন গভীর রাতে নারী ও শিশুসহ ২৮ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় রেখে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সীমান্তের ওপারে ভারতের পাকুড় ও মালদহ এলাকা। বাংলাদেশে প্রবেশে বিজিবির বাধার মুখে পড়ে ওই ব্যক্তিরা টানা দুই দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। পরে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

    চলতি বছরে প্রায় ১২০টি চেষ্টা ঠেকিয়েছে বিজিবি:

    সীমান্ত এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে ‘পুশ-ইন’ ইস্যুতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিকবার পতাকা বৈঠক হয়েছে। কোথাও কোথাও দুই বাহিনীর মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে কয়েকবার। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রায় ১২০টি পুশ-ইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।

    প্রশ্ন উঠছে আইনি বৈধতা নিয়ে:

    নাগরিকত্বের প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে একতরফাভাবে সীমান্ত পার করে দেওয়া কতটা বৈধ—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত না করে তাকে জোর করে অন্য দেশের ভূখণ্ডে পাঠানোর চেষ্টা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    বাংলাদেশ ও ভারতের মানবাধিকার কর্মীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মতো বিষয় কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

    গত সরকারের সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও সীমান্তে পুশ-ইনের অভিযোগ সামনে আসে। তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে বিষয়টির সমাধান হবে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও সীমান্তে একই ধরনের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের আলোচনা চলার মধ্যেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে সীমান্ত দিয়ে মানুষ পাঠানোর অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    কেন এই পথে হাঁটছে ভারত?

    বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই প্রভাব ফেলছে না, বরং মানবিক সংকটও তৈরি করছে। নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কোনো ব্যক্তিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা আন্তর্জাতিক নিয়ম ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্ন তুলছে। এখন বড় প্রশ্ন—সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে দুই দেশ কীভাবে কার্যকর সমাধানে পৌঁছাবে এবং পরিচয়হীন মানুষগুলোর মানবিক অধিকার কীভাবে নিশ্চিত হবে।

    পুশ-ইনের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য:

    সীমান্ত দিয়ে মানুষ ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কয়েক হাজার মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে বিজিবি বলছে, তারা বহু পুশ-ইন প্রচেষ্টা আটকে দিয়েছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশ ঠেকিয়েছে।

    গত ৮ জুন কলকাতায় এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, মে মাসে রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে হোল্ডিং সেন্টার চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

    তিনি আরও দাবি করেন, এসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশি ও অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে ৮৩৬ জন ওই হোল্ডিং সেন্টারে অবস্থান করছেন বলেও জানান তিনি।

    তবে এই দাবির সঙ্গে একমত নয় বিজিবি। বাহিনীর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সীমান্তে প্রায় ১২০টি পুশ-ইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় ৯০০ মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    আট মাসে আটক ২ হাজার ৩৫৬ জন:

    বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা ২ হাজার ৩৫৬ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৯৯৬ জন বাংলাদেশি, ১৩৪ জন ভারতীয় এবং ২২৬ জন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক ছিলেন। পরে তাদের মধ্যে ২ হাজার ১৬৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    ২০২৫ সালে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইনের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলায় আটক ব্যক্তির সংখ্যা ছিল— চুয়াডাঙ্গায় ৬২ জন, মেহেরপুরে ১১৬ জন, সাতক্ষীরায় ৩২ জন, কুষ্টিয়ায় ৯ জন, ঝিনাইদহে ২৬ জন, ফেনীতে ৬৯ জন, মৌলভীবাজারে ৫৮০ জন, ময়মনসিংহে ৩৩ জন, নেত্রকোণায় ৭৬ জন, পঞ্চগড়ে ১৯৬ জন, লালমনিরহাটে ১৫০ জন, কুড়িগ্রামে ৯১ জন, খাগড়াছড়িতে ১৫৩ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১০২ জন, দিনাজপুরে ৫২ জন, জয়পুরহাটে ৪ জন, কুমিল্লায় ১৩ জন, সিলেটে ২৮৯ জন, হবিগঞ্জে ৪১ জন, সুনামগঞ্জে ৭৪ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯২ জন, নওগাঁয় ৪৬ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭ জন এবং শেরপুরে ৩১ জন।

    পুশ-ইনের পর ফেরতও নিচ্ছে ভারত:

    সীমান্তে পুশ-ইনের অভিযোগের মধ্যে কিছু ঘটনায় পরে ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত বছর আসামের বাসিন্দা সোনা বানুর ঘটনা আলোচনায় আসে। অভিযোগ ছিল, বিএসএফ তাকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

    একইভাবে অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবি ও তার পরিবারের ছয় সদস্যও পুশ-ইনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে আটকের পর পুলিশ আদালতে পাঠায়। সীমান্তসংক্রান্ত মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর বিজিবির মাধ্যমে সোনালী বিবিকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।

    সর্বশেষ গত ৮ জুলাই দীর্ঘ এক বছর পর কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইনের শিকার শিশুসহ চার নাগরিককে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ফেরত নেয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন দিয়ে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    সীমান্তে এসব ঘটনায় নাগরিকত্ব যাচাই, মানবাধিকার এবং দুই দেশের আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিচয় নিশ্চিত না করে কাউকে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া যেমন জটিলতা তৈরি করে, তেমনি দুই দেশের সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ে।

    গ্রামবাসীর তথ্যেই ঠেকছে পুশ-ইন, সীমান্তে বাড়ছে দুই দেশের টানাপোড়েন:

    সীমান্তে নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাই অনেক ক্ষেত্রে পুশ-ইন ঠেকাতে বড় ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা সময়মতো তথ্য না দিলে অনেক ঘটনাই নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ত।

    গত মে মাসের শেষ দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন ভারতের অংশে কয়েকশ মানুষের জড়ো হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। এরপর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ায় বিজিবি। পরবর্তী সময়ে ঝিনাইদহ, যশোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলার সীমান্তে একাধিক পুশ-ইন প্রচেষ্টা ঠেকানো হয় বলে জানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

    বিজিবির ভাষ্য, এসব ঘটনায় বিএসএফের কার্যক্রমে একটি নির্দিষ্ট ধরণের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। সীমান্ত দিয়ে মানুষ প্রবেশ করানোর আগে কিছু সংকেত বা প্রস্তুতির লক্ষণ পাওয়া যায়। সেই তথ্য স্থানীয় বাসিন্দা, গোয়েন্দা সূত্র ও নিজেদের নজরদারির মাধ্যমে সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেয় বিজিবি। বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অনেক কঠিন। স্থানীয়রা টহল ও নজরদারিতে সহায়তা করায় আগেভাগে সতর্ক হওয়া সম্ভব হচ্ছে।

    দিল্লির বৈঠকেও আলোচনায় পুশ-ইন:

    বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকেও পুশ-ইনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই বাহিনীর ৫৭তম সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশি নাগরিকসহ অবৈধ বিদেশিদের বিষয়ে দেশটির আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভারত দাবি করে, নিজস্ব আইন এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ পুশ-ইনের বৈধতা নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, নাগরিকত্ব নিশ্চিত না করে কাউকে একতরফাভাবে সীমান্ত পার করে দেওয়া মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী।

    বাংলাদেশের অবস্থান হলো, ভারতসহ যেকোনো দেশ থেকে কোনো ব্যক্তিকে ফেরত নেওয়ার আগে তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এরপর কূটনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে হবে। রাতের অন্ধকারে বা জোরপূর্বক সীমান্তের ভেতরে মানুষ ঠেলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে সাম্প্রতিক পুশ-ইন পরিস্থিতির পেছনে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) নিয়েও তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রভাব রয়েছে। ২০১৯ সালে সংশোধিত এই আইন ২০২৪ সালে কার্যকর করা হয়। এতে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া নথিহীন অমুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    আইন অনুযায়ী, আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট কিছু নথি জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি তাদের নাগরিকত্ব আবেদন যাচাইয়ের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব আবেদন যাচাইয়ের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর যারা সিএএর আওতায় পড়বেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এরপর থেকেই সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।

    বাংলাদেশ সরকার বলছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা সতর্ক রয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া তাকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। গত ২৬ জুন এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেসব স্থানে এ ধরনের চেষ্টা হচ্ছে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হচ্ছে।

    তিনি জানান, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হলে তার তালিকা কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারতকে দিতে বলা হয়েছে। এরপর নাগরিকত্ব যাচাই করে আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু ভারতীয় নাগরিকও এ ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাদের পরিচয় যাচাই করে আদালতের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সব সময় এক রকম থাকে না। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর রাজ্য সরকারের কিছু রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকতে পারে। তবে কাউকে জোর করে সীমান্ত পার করে দেওয়া কোনো গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া নয়। সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, নাগরিকত্ব যাচাই এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান।

    পুশ-ইন নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন কী বলে?

    সীমান্তে কাউকে জোর করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ঠেলে পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনে সরাসরি ‘পুশ-ইন’ বা ‘পুশব্যাক’ নামে কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে অ-প্রত্যর্পণ নীতি (নন-রিফাউলমেন্ট) লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

    ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের ৩৩(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না, যেখানে তার জীবন, স্বাধীনতা বা নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই নীতিই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুশ-ইনের ক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যক্তিকে পরিচয় যাচাই, আইনি শুনানি বা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ছাড়াই সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

    সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনও বিভিন্ন সময়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নতুন কিছু আইনি ব্যবস্থার কারণে যথাযথ যাচাই ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সীমান্তের দিকে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত না করে তাকে অন্য দেশের ভূখণ্ডে পাঠানোর চেষ্টা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার কী বলছে?

    জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (আইসিসিপিআর)-এর ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে ব্যক্তির স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বেআইনি বা খামখেয়ালি আটকের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

    এই ধারায় বলা হয়েছে, কাউকে আটক করা হলে তাকে আটকের কারণ জানাতে হবে এবং দ্রুত আইনি পর্যালোচনার সুযোগ দিতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হলে তা ব্যক্তির মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন তুলতে পারে।

    বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অন কনস্যুলার রিলেশনস (ভিসিসিআর)-এর সদস্য। এই কনভেনশনের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক আটক হলে তাকে তার দেশের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা হাইকমিশনকে বিষয়টি জানানোর বিধান রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা উচিত।

    আন্তর্জাতিক আইনে রাষ্ট্রহীনতা প্রতিরোধের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬১ সালের কনভেনশন অন দ্য রিডাকশন অব স্টেটলেসনেস-এ কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রহীন অবস্থায় ঠেলে না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত না করে তাকে সীমান্তের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হলে রাষ্ট্রহীনতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের মূল বার্তা হলো—কোনো ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর আগে তার পরিচয়, নাগরিকত্ব এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আইনগত প্রক্রিয়া ও মানবাধিকারের নীতি অনুসরণ করাই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচনা।

    বন্দুকের ভয় দেখিয়ে নারী-শিশুদের ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ:

    বাংলাদেশি সন্দেহে মানুষকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের ঘটনায় নারী, শিশু ও গর্ভবতীসহ অনেক মানুষ দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

    এপিডিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে কিছু মানুষকে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নিয়ে গিয়ে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এ সময় অনেককে ভয় দেখানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিজিবি তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দিলে অনেকেই সীমান্তের শূন্যরেখা বা ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ আটকা পড়ছেন। সেখানে থাকা মানুষদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। খাবার, পানি ও আশ্রয়ের সংকটে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

    সীমান্তে পুশ-ইন ইস্যু নিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ এবং কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার যৌথ উদ্যোগে একটি ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, একতরফাভাবে কাউকে সীমান্ত পার করে দেওয়া একটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।

    তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হন, তাহলে তাকে গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এর আগে ভারতকে যথাযথ নথিপত্র দিতে হবে এবং দুই দেশের সম্মত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

    তার মতে, বড় পরিসরে পুশ-ইন হলে তা বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে জাতীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং ভারতের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিকে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে সীমান্তে পাঠানো উচিত নয়।

    সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, পুশ-ইন কোনোভাবেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বা গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া নয়। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হলে যথাযথ যাচাই শেষে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব হলো আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা।

    তার মতে, ভারত যদি প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত দিতে চায়, তাহলে দুই দেশের স্বীকৃত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সীমান্ত দিয়ে একতরফাভাবে মানুষ পাঠানো কোনো সমাধান নয়। তিনি আরও বলেন, যারা বাংলাদেশের নাগরিক নন, তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তবে প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিক হলে যাচাই করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    বলপূর্বক পুশ-ইন সীমান্ত আইনের লঙ্ঘন:

    অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী আসিফ মুনির বলেন, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইন অনুযায়ী কাউকে জোর করে অন্য দেশের সীমান্তে ঠেলে দেওয়া বৈধ নয়। তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট সীমান্ত রয়েছে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। পাসপোর্ট, ভিসা বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া জোরপূর্বক সীমান্ত পার করানোর চেষ্টা আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থার লঙ্ঘন।

    তার মতে, কেউ অনুপ্রবেশ করেছে বা কাউকে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজন হলে প্রথমে তার নাগরিকত্ব যাচাই করতে হবে। এরপর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনা, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা সংশ্লিষ্ট দেশের পরিচয়পত্রের মতো নথি যাচাই ছাড়া একতরফা পুশ-ইনের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

    আসিফ মুনির আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিজিবির উচিত বিএসএফের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। পাশাপাশি বিষয়টি কূটনৈতিক পর্যায়ে তুলে ধরে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সীমান্তে মানুষের মানবিক অধিকার উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বর্ষা বা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে মানুষকে শূন্যরেখায় আটকে রাখা অমানবিক।

    সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। বিজিবির উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অননুমোদিত বা একতরফা অনুপ্রবেশ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, এ ধরনের যেকোনো প্রচেষ্টা বিজিবি আইন অনুযায়ী প্রতিহত করে।

    বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন নাগরিকত্ব যাচাই, মানবাধিকার রক্ষা এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান।

    সীমান্ত শুধু কাঁটাতারের বেড়া নয়, এটি দুই দেশের আইন, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তারও প্রতীক। নাগরিকত্বের প্রশ্নে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, পরিচয় যাচাই ছাড়া কাউকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ঠেলে দেওয়া যেমন আইনি জটিলতা তৈরি করে, তেমনি তৈরি করে মানবিক সংকট।

    শূন্যরেখায় রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নারী, শিশু কিংবা বৃদ্ধদের দৃশ্য কেবল একটি সীমান্ত বিরোধের ছবি নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের মানবিক মূল্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

    এখন বড় প্রশ্ন—সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই দেশ কি এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে, যেখানে কোনো মানুষকে পরিচয়হীন অবস্থায় কাঁটাতারের মাঝখানে অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না? কারণ সীমান্ত রক্ষা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি মানুষের মর্যাদা রক্ষা করাও সভ্য রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান পরিচয়।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়ার ইসরায়েলের স্বপ্ন যেভাবে ভেস্তে যাচ্ছে

    জুলাই 23, 2026
    আইন আদালত

    শীর্ষ আমলার রাষ্ট্রপতি হওয়ার গুঞ্জন, বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি আইন?

    জুলাই 23, 2026
    আইন আদালত

    এজলাসে উত্তেজনা: বিচারক-আইনজীবী সম্পর্কের সংকট কোথায়?

    জুলাই 23, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.