Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, জুলাই 29, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ট্রাইব্যুনালে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অভিযোগ প্রত্যাখ্যান প্রসিকিউশনের
    আইন আদালত

    ট্রাইব্যুনালে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অভিযোগ প্রত্যাখ্যান প্রসিকিউশনের

    নিউজ ডেস্কজুলাই 29, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    পুনর্গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে প্রথম রায় দিয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে।
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিচালনায় কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

    সংস্থাটি বলছে, তাদের অনুসন্ধানে এটি দেখা গেছে যে, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিচারকরা তদন্ত কর্মকর্তাদের নথিভুক্ত করা এমন সাক্ষ্য বিবৃতির ওপর নির্ভর করছেন, যেগুলোর একাধিক বিবৃতিতে একই অনুচ্ছেদ পাওয়া গেছে।

    এতে এসব সাক্ষ্য বিবৃতির সত্যতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেছেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মন্তব্য সঠিক ও তথ্যভিত্তিক নয়, বরং কিছু আসামির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এ ধরনের রিপোর্ট তারা দিয়ে থাকতে পারে।

    “কারও প্রতি সহানুভূতির ভিত্তিতে এ ধরনের রিপোর্ট দেওয়া হলে তা হবে দু:খজনক। বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই এ ধরনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে” বলেছেন তিনি।

    যদিও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ডেপুটি এশিয়া ডিরেক্টর মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার যেন যথাযথ সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা হয় সেটিই তারা চাইছেন।

    “বাংলাদেশকে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে এবং সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে দুর্বল তদন্ত ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কোনো সুযোগ যেন না থাকে” বলেছেন তিনি।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও যা বলা হয়েছে

    বিজ্ঞপ্তিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক ডজনেরও বেশি মামলার পর্যবেক্ষণে যথাযথ প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

    সংস্থাটির মতে, প্রসিকিউটররা অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই ব্যক্তিদের আটক ও অভিযুক্ত করেছেন। এছাড়া একাধিক মামলায় সাক্ষ্যবিবৃতিতে একই ধরনের দোষারোপমূলক অংশ বিভিন্ন সাক্ষীর বক্তব্যে যুক্ত করা হয়েছে বলে দেখা গেছে।

    “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিচালনায় কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। এসব ব্যর্থতা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করতে পারে, আইনের শাসনকে দুর্বল করতে পারে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে,” বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

    এতে উল্লেখ করা হয় যে, গত ২৭শে জুলাই প্রসিকিউটররা মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলীকে উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “শেখ হাসিনা সরকারের সময় সংঘটিত বহু নির্যাতনের জন্য দায়ীদের অবশ্যই যথাযথভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে অনেক বিচারই আন্তর্জাতিক ন্যায্য বিচারের মানদণ্ড পূরণ করছে না। বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে তার ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে এবং নতুন সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে দুর্বল তদন্ত ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কোনো সুযোগ না থাকে।”

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্রাইব্যুনাল মূলত ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের ঘটনাগুলোর বিচার করছে। ওই অভিযানে ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ গুরুতর আহত হন। শেষ পর্যন্ত এই আন্দোলনের ফলেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।

    এছাড়া শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের মতো অন্যান্য অভিযোগও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

    শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনাল ৬টি মামলার বিচার সম্পন্ন করেছে। এতে মানবতাবিরোধী অপরাধে ৬২ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪২ জনের বিচার তাদের অনুপস্থিতিতে হয়েছে, যার মধ্যে শেখ হাসিনাও রয়েছেন। এছাড়া ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বর্তমান আইন অনুযায়ী প্রসিকিউটররা কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে পারেন। আটক ব্যক্তিদের মাসের পর মাস লিখিত কারণ ছাড়াই আটক রাখা যায়। পৃথক আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন আপিলের অধিকার নেই।

    “প্রসিকিউশন তাদের পাওয়া প্রমাণগুলো প্রকাশের মাত্র তিন সপ্তাহ পরই বিচার শুরু করা সম্ভব, যা আসামিপক্ষের প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত অল্প সময়। অনুপস্থিতিতে পরিচালিত বিচারগুলোতেও অভিযুক্তদের নিজেদের আইনজীবী নির্বাচন করার অধিকারসহ যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় না। এছাড়া প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের সাক্ষীদের জেরা করার ক্ষমতাও সীমিত,” বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

    এইচআরডব্লিউ) বলছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিচালনায় কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

    ২০১৩ সালের মে মাসে হেফাজতে ইসলাম-এর এক সমাবেশ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের কারণে গত ১৪ই মে ট্রাইব্যুনাল দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সে সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছিল।

    কিন্তু প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং উপস্থাপক ফারজানা রূপা সরকারকে হত্যাকাণ্ড গোপন করতে সহায়তা করেছিলেন এবং ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রচার করেছিলেন।

    সাংবাদিকদের আইনজীবীরা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, প্রসিকিউটররা তাদের গ্রেপ্তারের কারণ লিখিতভাবে জানাননি। এটি আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক চুক্তির (আইসিসিপিআর) এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের পরিপন্থি।

    ২৭শে জুলাই দাখিল করা অভিযোগপত্রে ওই দুই সাংবাদিকসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়। আন্তর্জাতিক আইনে গণহত্যা বলতে কোনো জাতীয়, জাতিগত, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত নির্দিষ্ট অপরাধকে বোঝায়।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিচারকরা এমন সাক্ষ্য বিবৃতির ওপর নির্ভর করছেন, যেখানে তদন্ত কর্মকর্তাদের রেকর্ড করা একাধিক বিবৃতিতে একই অনুচ্ছেদ হুবহু বা প্রায় হুবহু পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এতে এসব সাক্ষ্য বিবৃতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এর একটি উদাহরণ হলো ডা. মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ চৌধুরী ও অন্যান্য মামলাটি। এই মামলায় চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্রে ২০২৪ সালের ১৬ ও ১৮ই জুলাই এবং ৪ঠা আগস্ট সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগের ২২ জন রাজনীতিবিদ ও কর্মীর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে প্রকাশিত ৫৫টি সাক্ষ্য বিবৃতি রয়েছে”।

    “এসব বিবৃতির মধ্যে একটি ছয় লাইনের অনুচ্ছেদ, যা ১৪টি পৃথক সাক্ষ্য বিবৃতিতে প্রায় শব্দে শব্দে একই রকম পাওয়া গেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সাতজন রাজনীতিবিদ পরিকল্পনা, অর্থায়ন, উসকানি ও নির্দেশনার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে ছয়জনকে হত্যা করেছেন”।

    একই মামলায় আটক থাকা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর আইনজীবীরা সাংবাদিকদের কাছে এমন একটি অডিও রেকর্ডিং দেন, যাতে দাবি করা হয় যে ট্রাইব্যুনালের এক প্রসিকিউটর ১ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে তার জামিন নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

    রেকর্ডিং প্রকাশের পর ওই প্রসিকিউটর পদত্যাগ করেন। তবে প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় এখনো তদন্ত শেষ করেনি। এদিকে বিচারকরা অভিযোগ গঠন সম্পন্ন করেছেন এবং মামলার বিচার ৬ই আগস্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

    মীনাক্ষী গাঙ্গুলীকে উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের উপলব্ধি করা উচিত যে তারা অতীতের মতো রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বিচার পুনরাবৃত্তি করতে পারে না। একই ধরনের সাক্ষ্যবিবৃতির ওপর ভিত্তি করে আনা অভিযোগ একটি বিশ্বাসযোগ্য বিচারপ্রক্রিয়ার অভাবকে স্পষ্ট করে। এর ফলে আবারও ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।”

    বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    মীনাক্ষী গাঙ্গুলি যা বলেছেন

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জানতে চাইলে মীনাক্ষী গাঙ্গুলি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, “আমরা চাই বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে আওয়ামী লীগের সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারগুলো যথাযথ হোক। এগুলোতে তাড়াহুড়ো করলে কিংবা ১২ সাক্ষীর সবাই একই কথা বললে অর্থাৎ বিচারটায় যথাযথ প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) না মানলে তাতে ভিকটিম ন্যায়বিচার পায় না”।

    কিন্তু এখন যে প্রক্রিয়ায় বিচার হচ্ছে সেটিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মনে করছে না কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সবাই জানে এটা খারাপ- তাই এটা খারাপ। এটা তো হয় না। মামলার কিছু প্রক্রিয়া আছে। এভিডেন্স সংগ্রহ করা, সেগুলা ঠিকমতো উপস্থাপন করা, ডিফেন্স ল’ইয়ার (আসামি পক্ষের আইনজীবী) থাকা, ক্রস এগজামিনেশন (সাক্ষ্য জেরা) হওয়া । রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পূরণের জন্য হলে তো ন্যায় বিচার হয় না”।

    এখন যে বিচার হচ্ছে তাতে কী তাহলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে ? – এমন প্রশ্নের জবাবে মিজ গাঙ্গুলি বলেন, “৪০০ জনকে এক মামলায় দিল। জেলে নিল। জামিন হলো না। এগুলো তো বাংলাদেশ আগে দেখেছে। এগুলো তো আর বাংলাদেশ দেখতে চায় না। পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে হবে”।

    মীনাক্ষী গাঙ্গুলী। ছবি: এএফপি

    চিফ প্রসিকিউটর যা বললেন

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেছেন যে, বিভিন্ন মামলায় বিচারে সোপর্দ করা হয়েছে এমন কিছু আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্টটি করা হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।

    “এ ধরনের বক্তব্য বা রিপোর্ট দেওয়ার আগে তারা আমার বা প্রসিকিউশনের কারও বক্তব্য নেয়নি। এ রিপোর্টের কোনো সত্যতা নেই। প্রসিকিউশনে ২০ বছরের কম অভিজ্ঞ কোনো আইনজীবী নেই। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আছেন। সব ভিডিও ফুটেজ দ্বারা প্রমাণিত। প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত। তার আর কোন মানদণ্ড খুঁজছেন আমি জানি না,” বলেছিলেন তিনি।

    মি. ইসলাম বলেন, “আমি তাদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। অনেক যাচাই বাছাই শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তারা শাপলা চত্বর মামলা ও চট্টগ্রামের এক মামলা অভিযুক্তদের পক্ষে সাফাই গেয়েছে। কারও প্রতি অ্যাফিলিয়েশন থেকে তারা এই রিপোর্ট করতে পারে। আমি মনে করি বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তারা”।

    আসামিদের জামিন পাওয়ার অধিকার ও একই বক্তব্য বারবার ব্যবহারের যে অভিযোগ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ করেছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি রোম স্ট্যাটিউটে যেভাবে বলা আছে সেভাবেই সব হচ্ছে। জামিন পাওয়ার এখতিয়ার থাকলে পাবে। জামিন তো হচ্ছে। আমরা বেআইনি বা অন্যায়ভাবে কাউকে ধরে রাখিনি। সব মিলিয়ে স্বচ্ছ বিচার হচ্ছে। বরং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বক্তব্য সঠিক তথ্য ভিত্তিক নয়। আমরা এটিকে প্রত্যাখ্যান করছি”।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিজ্ঞপ্তির একাংশ

    প্রসঙ্গত, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য বাংলাদেশে ২০১০ সালের মার্চে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। তখন বিচারের পর ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। এদের মধ্যে পাঁচজন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং একজন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, “সেই বিচারগুলো প্রমাণের দুর্বলতা, রাজনৈতিক পক্ষপাত, প্রসিকিউটর ও বিচারকদের মধ্যে আঁতাত এবং মৌলিক ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার অভাবের কারণে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল”।

    সবশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য পুনর্গঠন করে একই ট্রাইব্যুনাল।

    পুনর্গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে প্রথম রায় দিয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে। রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

    ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অপরাধের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে।

    তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, এই সংশোধনগুলো আন্তর্জাতিক আদালতের সমমানের ন্যায্য বিচার ও প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট ছিল না।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এ বিষয়ে আর কোনো সংশোধন আনা হয়নি।

    ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজনীতিবিদ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং এমনকি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    ২০২৪ সালে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সূত্র: বিবিসি

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    জিয়াউর রহমান হত্যা রহস্যের অজানা অধ্যায়

    জুলাই 29, 2026
    বাংলাদেশ

    আবারও গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

    জুলাই 29, 2026
    বাংলাদেশ

    ঢাকার জলাবদ্ধতার মূল কারণ কি? ব্যর্থতার পেছনে যে সংকট

    জুলাই 29, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.