১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে আটক হওয়া দুই তরুণীকে প্রায় ছয় মাস আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা ওই মামলায় তাঁদের নাম এজাহারে ছিল না বলে জানিয়েছেন তাঁদের আইনজীবী।
কারাগারে পাঠানো দুই তরুণী হলেন জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে জান্নাত, ২১, এবং সুমা বড়াল ওরফে ডলি, ২৯।
রোববার (১৬ আগস্ট) তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবুল বাশার আবদুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে দেওয়া পুলিশের আবেদনে বলা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আবু সোলায়মান সুমন রোববার দুই তরুণীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, নিষিদ্ধঘোষিত মহিলা আওয়ামী লীগের ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কে সরকারবিরোধী মিছিলের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন। সকাল সোয়া ৬টার দিকে পুলিশ সেখানে গেলে কয়েকজনকে আটক করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যান।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের জন্য সেখানে জড়ো হয়ে মিছিল করার কথা স্বীকার করেন। পরে ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করে।
ছয় মাস আগে দায়ের করা সেই মামলাতেই এবার ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আটক জান্নাত ও সুমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
রোববার আদালতে দুই তরুণীর পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তাঁদের আইনজীবীরা। জান্নাতের পক্ষে গাজী ফয়সাল ইসলাম এবং সুমা বড়ালের পক্ষে লিটন মিয়া শুনানি করেন।
আদেশের পর আইনজীবী লিটন মিয়া বলেন, ছয় মাস আগের একটি মামলায় তাঁর মক্কেলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অথচ ওই মামলার এজাহারে তাঁদের নাম ছিল না।
ঘটনাটিতে একই সঙ্গে দুটি বিষয় সামনে এসেছে—১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে দুই তরুণীর আটক হওয়া এবং পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ছয় মাস আগের একটি মামলার আইনগত ব্যবস্থা কার্যকর করা। পুরোনো মামলায় তাঁদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে এখন তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়াতেই বিষয়টির বিস্তারিত নির্ধারণ হবে।

