ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করার অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজারকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির রাজস্ব বিভাগের বিবিধ আদায় শাখা, অঞ্চল-৪-এ কর্মরত এই কর্মকর্তার নাম মোস্তফা নূরউদ্দিন আহম্মেদ। একই সঙ্গে অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল রোববার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইন-শৃঙ্খলা, যানজট নিরসন ও ট্রেড লাইসেন্স–সংক্রান্ত সেবা নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এ ছাড়া প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।
সভায় মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত জুন মাসের শেষ দিকে দুই দিনব্যাপী একটি তাৎক্ষণিক রাজস্ব ক্যাম্পের সময় দায়িত্বে থাকা ওই সুপারভাইজার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চলতি অর্থবছরের মোট ২২টি ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ অর্থ গ্রহণ করেন।
তবে অর্থবছর শেষ হওয়ার পর দেড় মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও ওই লাইসেন্সগুলো নবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বারবার ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন সভাপতি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারের সঙ্গে ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবারই তিনি ‘আজ করে দেব, কাল করে দেব’ বলে সময় ক্ষেপণ করেছেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে হয়রানির শিকার হয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী নেতার এই অভিযোগ শোনার পরপরই সভায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। এরপর প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সরাসরি নির্দেশে ওই কর্মকর্তাকে লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা চেয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। তাঁর জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনা নগর সেবাপ্রদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ব্যবসায়ী মহলের অনেকেই মনে করছেন, লাইসেন্স নবায়নের মতো নিয়মিত প্রশাসনিক সেবায় যদি এমন হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ বারবার উঠতে থাকে, তাহলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলারও দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।

