দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক পদে ১০ চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। বিজ্ঞাপিত শূন্য পদে তাদের নিয়োগ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
একই সঙ্গে শূন্য পদে রিট আবেদনকারীদের নিয়োগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিলরুবা বেগমসহ ১০ চাকরিপ্রার্থীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটে দুদকের চেয়ারম্যান ও সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক, উপসহকারী পরিচালক ও কোর্ট পরিদর্শক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে সহকারী পরিচালকের ১৩২টি পদের জন্য আবেদন করেন রিটকারীরা। নিয়োগ প্রক্রিয়ার লিখিত ও অন্যান্য ধাপ পেরিয়ে তারা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।
রিটকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ না করেই শেষ পর্যন্ত ১৩০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাদের মধ্য থেকে কয়েকজন চাকরিতে যোগ না দেওয়ায় সহকারী পরিচালকের কিছু পদ শূন্য হয়ে পড়ে।
এই শূন্য পদগুলোতেই নিজেদের নিয়োগের দাবি করছেন রিটকারীরা। তাদের বক্তব্য, একই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শূন্য পদ পূরণের সুযোগ রয়েছে।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট পরিপত্র অনুযায়ী নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া কোনো প্রার্থী নির্ধারিত সময়ে চাকরিতে যোগ না দিলে তার পরিবর্তে একই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী সুপারিশ করার বিধান রয়েছে।
রিটকারীদের দাবি, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কোর্ট পরিদর্শক পদে শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে এই নিয়ম অনুসরণ করা হলেও সহকারী পরিচালক পদে তা করা হয়নি। ফলে একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমাল। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম।
ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুসরণ না করায় রিটকারীদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। নিয়োগে স্বচ্ছতা, মেধা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইনজীবীর তথ্যমতে, এ বিষয়ে গত ২৯ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।
আদালতের মঙ্গলবারের আদেশে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যাখ্যা দিতে হবে—শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও একই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এই ১০ প্রার্থীকে নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে না কেন। তবে রুল জারির মাধ্যমে আদালত এখনো তাদের নিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।

