প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার শর্তে জামিন চাইলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম গুলশান থানায় করা এ মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশান-২ নম্বরের এ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যে অভিযোগে মামলা
মামলার সূত্রে জানা যায়, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয়ে তাদের মধ্যে ৮০ লাখ টাকার চুক্তি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে বাদীকে ডেকে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন। এরপর উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বাদীকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
ফ্ল্যাটের বদলে দেওয়া হয় চেক
ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাদীকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ে চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর দেখা যায়, হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। ফলে চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়।
বাদীর অভিযোগ, এরপরও টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এমনকি পাওনা টাকা কিংবা ফ্ল্যাট ফেরত চাওয়ায় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
মামলায় আরও দাবি করা হয়, বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে করা এ মামলাটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া পেরিয়ে চলতি বছরের ২০ মে রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়। রায়ে বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাজার পরোয়ানার ভিত্তিতেই এবার তাকে কারাগারে পাঠানো হলো।

