দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন বিরোধী দলের ১১ জন সংসদ সদস্য।
রোববার তাদের পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদের হুইপদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। দায়িত্বের আওতায় রয়েছে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়।
রিট আবেদনকারী সংসদ সদস্যরা হলেন নাজিবুর রহমান, মীর আহমেদ বিন কাসেম, গোলাম রাব্বানী, নুরুল ইসলাম, মাসুদ পারভেজ, মো. আজিজুর রহমান, শেখ মনজুরুল হক, শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সালাউদ্দিন ও মো. জহিরুল ইসলাম।
আইনজীবী শিশির মনিরের দাবি, একই ধরনের জেলা ভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের উদ্যোগ এর আগেও নেওয়া হয়েছিল। ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার মন্ত্রীদের এভাবে জেলা ভিত্তিক দায়িত্ব দিয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তখন হাইকোর্টে রিট করা হয়।
শিশির মনির জানান, সেই মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ জেলা ভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন। ফলে পুরোনো ওই রায়ের আলোকে এবারও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের জেলা ভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রিটকারীদের আইনজীবীর বক্তব্য, সংবিধানের কাঠামো ও উচ্চ আদালতের আগের রায়ের আলোকে এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টনের জন্য সরকারের আইনগত কর্তৃত্ব রয়েছে কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন। তাদের মতে, নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বা আইনগত ক্ষমতা ছাড়া এভাবে মন্ত্রী ও হুইপদের প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া আইনগত কর্তৃত্বের সীমা অতিক্রম করতে পারে।
এখন হাইকোর্টে শুনানির পর বিষয়টি কোন দিকে যায়, সেটিই নির্ধারণ করবে ৬৪ জেলায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের এই দায়িত্ব বণ্টন বহাল থাকবে কি না।

