গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের সরাসরি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নতুন একটি আইন প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্যে, প্রস্তাবিত এই আইনে গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শাস্তির বিধানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন আয়োজিত এক প্রদর্শনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হওয়া বাংলাদেশে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ইতিমধ্যে ‘গুম প্রতিকার আইন, ২০২৬’ নামে একটি আইন উত্থাপন করা হয়েছে। এই আইনে বিভিন্ন ধরনের গুমের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান যেমন রাখা হয়েছে, তেমনি তদন্ত প্রক্রিয়া ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ কারা হবেন, তাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির খোঁজ শেষ পর্যন্ত না পাওয়া গেলে তার আইনগত উত্তরাধিকারীরা যেন সম্পত্তির অধিকার পেতে পারেন, আইনে সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া বিচার শেষে দোষী ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হলে সেই দায়ভার রাষ্ট্র নিজে বহন করবে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও অতীতে গুমের শিকার হয়েছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, যারা ফিরে এসেছেন তাদের বেঁচে থাকা নিয়ে কোনো ধরনের অবজ্ঞা বা হাস্যরস করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য হতাশাজনক বার্তা বহন করবে। তিনি জোর দিয়ে জানান, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দেশে নতুন করে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি অগোছালো বাহিনীর দায়িত্বভার তাদের হাতে এসেছিল। ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের পরিকল্পনাও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
মোংলায় নিখোঁজ এক ব্যক্তির প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, নিরপেক্ষ তদন্তে কোস্ট গার্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি এবং জলদস্যুদের নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে তিনি নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা গুমের ঘটনায় জড়িত সব বাহিনীর সদস্যকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং জাতিসংঘের একজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ।

