ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে দুদক জানায়, ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেনের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, অনুসন্ধানের সময় বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। তাঁরা বিদেশে চলে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করে দুদক।
যেভাবে হত্যা করা হয় ওসমান হাদিকে
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি।
ওই দিন আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্তের মধ্যেই ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদের নাম সামনে আসে। একই সময়ে তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আসে।
এখন ওই অর্থের উৎস, লেনদেনের ধরন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অভিযুক্তদের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করছে দুদক।

