ঢাকার সাভারে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে চার শিক্ষক ও ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গত ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন শিশুটির বাবা। তবে মামলার পরও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সামিরুল হাসান বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণ এবং ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে ছয় শিক্ষার্থী ও চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। আদালতের নির্দেশে মামলা হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শিশুটির বাবা জানান, সাভারের পূর্ব শাহীবাগ এলাকার মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসায় তার ছেলে পড়াশোনা করে এবং আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সেখানেই থাকে। তিনি নিজে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
বাবার ভাষ্য, ছেলে বাড়িতে এলে বেশ কিছুদিন ধরে তাকে মনমরা থাকতে দেখা যেত। সে ঠিকমতো কথা বলত না, খাবারও খেতে চাইত না। মাদ্রাসার পড়াশোনার চাপের কারণে ছেলে সেখানে যেতে চাইছে না—এমনটাই ভেবেছিলেন তাঁরা। তাই শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি।
পরে মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে সেখানে শিশু শিক্ষার্থীদের ধর্ষণের অভিযোগের কথা জানতে পারেন তিনি। কয়েক দিন আগে এ নিয়ে মাদ্রাসায় বিচারও হয়েছে বলে ওই অভিভাবকের কাছ থেকে জানতে পারেন শিশুটির বাবা।
এরপর ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। গত ১৪ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা জানায়। শিশুটির অভিযোগ, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাকে ধর্ষণ করেছে।
বিষয়টি জানার পর শিশুটির বাবা মাদ্রাসার পরিচালক জিয়া বিন কাশেমের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পুলিশের কাছে তুলে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরদিন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বরং বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিচিত এক চিকিৎসকের পরামর্শ নেন তার বাবা। শিশুটিকে পরীক্ষা করে ওই চিকিৎসক দ্রুত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।
গত ১৮ আগস্ট শিশুটিকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়ার পরামর্শ দেন। একই দিন শিশুটিকে ওসিসিতে নেওয়া হয়। সেখানে চার দিন ভর্তি রেখে তার চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান শিশুটির বাবা।
পরে পরিচিত এক আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলা করেন তিনি। আদালত শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণ করে সাভার মডেল থানাকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ আগস্ট থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, বাদী চাইলে সরাসরি থানায় এসে মামলা করতে পারতেন। সরাসরি থানায় মামলা হলে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকত। তবে এখন অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

