আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের কোনো সাংঘর্ষিকতা নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, বিলে গুমের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে অন্য কোনো আইনেরও সংঘাত হওয়ার সুযোগ নেই। বরং গুম যদি ব্যাপক, একই ধরনের বা পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত হয়, তাহলে সেটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আসবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, এর মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচার পাওয়ার পথ আরও সুগম হয়েছে। তাঁর মতে, গুমের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য আইনটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে।
তিনি বলেন, গুমের ঘটনা যদি বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে, তাহলে তার বিচার সংশ্লিষ্ট সাধারণ আইনের অধীনে হতে পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে, একই ধরনের পদ্ধতিতে বা পরিকল্পিতভাবে গুম সংঘটনের অভিযোগ থাকলে বিষয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার প্রযোজ্য হবে।
চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং গুমের প্রকৃতি ও ব্যাপ্তির ওপর ভিত্তি করে কোন আইনে এবং কোন আদালতে তার বিচার হবে, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আটক রাখলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেটি গুম হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এর ফলে কাউকে আটক করার পর তাঁর অবস্থান ও হেফাজত সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি আইনি কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা গুমের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে কি না, তা সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন আইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

