দেশের বিচারকদের আবাসন সমস্যা দূর করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ৬৪ জেলা ও ৮ মহানগরে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
ইতিমধ্যে ভবন নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে আইন ও বিচার বিভাগের পরিকল্পনা ইউনিট।
গত ২ সেপ্টেম্বর পাঠানো ওই চিঠিতে আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য জায়গার তথ্য চাওয়া হয়েছে।
অধিকাংশ বিচারক থাকেন ভাড়া বাসায়
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি জেলায় দেওয়ানি, ফৌজদারি ও বিভিন্ন বিশেষ আদালত ও ট্রাইব্যুনালে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জন বিচারক দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু অধিকাংশ জেলায় তাদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি আবাসনের ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক বিচারককে বাধ্য হয়ে ভাড়া বাসায় থাকতে হয়।
মন্ত্রণালয় মনে করছে, বিচারকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু আবাসনের সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। স্পর্শকাতর মামলার কারণে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
ভাড়া বাসায় থাকার কারণে বিচারক ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকে। পাশাপাশি বাইরের মানুষের চাপ বা তদবিরের সুযোগ তৈরি হতে পারে। চুরি বা অন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটতে পারে।
হবে ১০ থেকে ১৫ তলা ভবন
জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলা ও মহানগরে ১০ থেকে ১৫ তলা আবাসিক ভবন তৈরির পরিকল্পনা করেছে মন্ত্রণালয়।
যেসব জেলা জজশিপে সরকারি জায়গা রয়েছে, সেসব জায়গাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সেখানে জায়গা না মিললে আদালত ভবনের আশপাশে জমি খোঁজা হবে।
প্রস্তাবিত ভবনে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা, নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ এবং সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা।
এ ধরনের ব্যবস্থা থাকলে বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন সহজ হবে, তেমনি ভবিষ্যতে নতুন বিচারক নিয়োগ হলেও আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
আদালতের কাছাকাছি জায়গা খোঁজা হচ্ছে
প্রকল্পের আওতায় জেলা ও দায়রা জজদের নিজেদের আদালত এলাকার মধ্যে জায়গা খুঁজতে বলা হয়েছে।
পুরোনো কোর্ট বা মুন্সেফ কোর্ট প্রাঙ্গণেও জায়গা আছে কি না, তা দেখতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য জায়গার পরিমাণ ও অবস্থান জানিয়ে নকশাও পাঠাতে হবে।
আদালত প্রাঙ্গণে জায়গা না থাকলে জেলা জজ আদালত ভবনের এক কিলোমিটারের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের সুযোগ আছে কি না, সে তথ্যও দিতে বলা হয়েছে।
সাবেক বিচারকেরাও দেখছেন ইতিবাচকভাবে
সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. শাহজাহান সাজু সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তার মতে, বিচারকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আদালতের কাজ শেষ হওয়ার পরও রায় লেখা বা অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে তাদের দীর্ঘ সময় থাকতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে ভাড়া বাসায় থাকা নিরাপদ নয়।
তিনি বলেন, ভাড়া বাসায় থাকলে বিচারকদের নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। নিরাপত্তার পাশাপাশি তদবির, চুরি বা বাড়িওয়ালার সঙ্গে বিরোধের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
তার মতে, বিচারকদের জন্য আলাদা সরকারি আবাসিক এলাকা থাকলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে বিচারকদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতাও বাড়বে।
আদালতের কাছাকাছি আবাসন হলে যাতায়াতের সময় ও খরচও কমবে বলে মনে করেন তিনি।
বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি আবাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা তারাও জানিয়েছিলেন বলে জানান ড. শাহজাহান সাজু।

