বিয়ের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন ও প্রতারণা ঠেকাতে কাবিননামায় বর-কনের আগের বিয়ে, বর্তমান বৈবাহিক অবস্থা ও সন্তানের তথ্য যুক্ত করার ব্যবস্থা করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে এসব তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথির মাধ্যমে যাচাই বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সোমবার রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও তানজিলা রহমান জুই।
যে কারণে রিট
গত ২৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। এতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’তে বর ও কনের বৈবাহিক ইতিহাসের সব তথ্য সমানভাবে জানানোর ব্যবস্থা নেই।
বিশেষ করে আগের বিয়ে, তালাক, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী এবং আগের সম্পর্কের সন্তানদের তথ্য পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ ও যাচাই করার বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেই বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বরের ক্ষেত্রে যে ঘাটতি
রিটে বলা হয়েছে, কাবিননামায় বরের বর্তমান স্ত্রী এবং দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের অনুমতির বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। তবে তার আগের সব বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।
কনের ক্ষেত্রেও আগের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতিহাস যাচাইয়ের একই ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনকারীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এসব তথ্য না জানার সুযোগ থাকায় পরবর্তী বিয়েতে প্রতারণার আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে একজন ব্যক্তি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
সন্তানের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন
রিটে আরও বলা হয়েছে, আগের বিয়ে ও সন্তানদের তথ্য গোপন করা হলে বর্তমান স্ত্রী বা স্বামী এবং সন্তানদের আইনগত অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ কারণে কাবিননামায় বর ও কনের আগের ও বর্তমান সব বিয়ের তথ্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব বিয়ে থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানের তথ্য, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব এবং অন্যান্য চলমান আইনগত দায়ও উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বর যুক্ত করে এসব তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার আবেদন করা হয়েছে।
কাবিননামা সংশোধনের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে
রিটে বলা হয়েছে, পারিবারিক জীবন ও নাগরিকের অধিকার সুরক্ষায় কাবিননামার সংশ্লিষ্ট ফরম আধুনিক ও তথ্যনির্ভর করা প্রয়োজন।
এসব তথ্য যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়াকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে কাবিননামার নির্ধারিত ফরম সংশোধন ও হালনাগাদের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান জানিয়েছেন, রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে।

