জাতিসংঘ ও ইউএনডিপি’র সহায়তায় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত আইন কর্মকর্তাদের জন্য নৈতিকতা বিষয়ক দু’দিনব্যাপী উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার হোটেল হলিডে ইনে “Strengthening the Principles and Practices of Prosecutorial Ethics for the Attorney General’s Office of Bangladesh” শীর্ষক এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগস, ইউএনওডিসি’র দক্ষিণ এশিয়া প্রধান ক্রিশ্চিয়ান হোলগে।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইউএনওডিসি বাংলাদেশের অফিস প্রধান শাহ মোহাম্মদ নাহীয়ান এবং ইউএনডিপি’র সিনিয়র উপদেষ্টা রোমানা শোয়াইগার, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হকসহ দেশি-বিদেশি ফৌজদারি বিচার বিশেষজ্ঞরা।
এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত ১৬০ জন ডেপুটি ও সরকারি অ্যাটর্নি জেনারেল।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব শুধু মামলা পরিচালনা বা জয়লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালতকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করাই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি দুর্নীতি, ঘুষ, দায়িত্বে অবহেলা, নথি গোপন করা কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখার ঘোষণা দেন।
উদ্যোগের তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় আইন কর্মকর্তাদের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব যত দৃঢ় হবে, বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা তত বাড়বে। প্রথমবারের মতো এমন একটি কাঠামোবদ্ধ, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ আয়োজন প্রমাণ করে যে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে।
আইনজীবী মহল ও সুশীল সমাজের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। অনেকেই একে “প্রায় বিপর্যস্ত আইনি সেবা ও বিচারব্যবস্থাকে রক্ষার একটি এগিয়ে যাওয়া পদক্ষেপ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং নৈতিক মান বজায় রাখতে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

