যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিচার বিভাগ আদালতের কাজে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা তৈরি করছে। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে এই নতুন সুপারিশ আসতে পারে।
এই কাজের দায়িত্বে আছে একটি টাস্কফোর্স। এর প্রধান বিচারক সিডনি টমাস বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, এআই প্রযুক্তি আদালতের কার্যক্রম আধুনিক করতে সাহায্য করতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত মার্কিন জুডিশিয়াল কনফারেন্সের বৈঠকের পর তিনি এসব কথা বলেন। এই কনফারেন্স হলো বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা।
টমাস বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য হলো এআই-এর কার্যকর ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
গত বছর গঠিত হওয়া ২৪ সদস্যের এই টাস্কফোর্স এখন পর্যন্ত ৬০টিরও বেশি বিষয় চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আইটি নিরাপত্তা, নীতি নির্ধারণ, নৈতিকতা প্রশিক্ষণ, প্রবেশন, বিচার-পূর্ব সেবা, পাবলিক ডিফেন্ডার সেবা এবং খরচ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়।
টমাস জানান, এখন পর্যন্ত টাস্কফোর্স ৩০টি সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে দেশজুড়ে বিচারকদের একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
সেই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, বিচারকরা যেন আদালতের মূল দায়িত্ব এআই-এর হাতে না ছাড়েন। পাশাপাশি এআই তৈরি যেকোনো তথ্য নিজেরা যাচাই করার কথাও বলা হয়েছিল।
এই নির্দেশনা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে এটি গত অক্টোবরে রিপাবলিকান সিনেটর চাক গ্রাসলিকে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির প্রধান গ্রাসলিকে এই চিঠি পাঠানো হয়, কারণ দুজন বিচারক স্বীকার করেছিলেন যে তারা আদালতের আদেশ তৈরিতে এআই ব্যবহার করেছিলেন এবং সেখানে ভুল ছিল।
টমাস জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে টাস্কফোর্স আরও সুপারিশ দেবে। তিনি বলেন, তারা চান তাদের পরামর্শদাতার ভূমিকা শেষ করে বিষয়টি কনফারেন্সের মূল আলোচ্যসূচিতে নিয়ে আসতে।
টমাস স্বীকার করেন, আদালতে জমা দেওয়া নথিতে এআই তৈরি ভুয়া মামলার উদাহরণ এবং অন্যান্য মনগড়া তথ্য বহুবার পাওয়া গেছে। এমন কাজের জন্য আইনজীবী এবং নিজে মামলা লড়া ব্যক্তিদের শাস্তিও দেওয়া হয়েছে।
তবে টমাস মনে করেন, এআই আদালতের কাজকে আরও সহজ করতে পারে। তিনি সানফ্রান্সিসকো ভিত্তিক নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের একজন বিচারক।
তিনি বলেন, এআই দিয়ে আদালতের কাজ আধুনিক করা সম্ভব। এতে অনেক টাকাও বাঁচবে এবং বিচার প্রক্রিয়া আরও ভালো হবে।
টমাস তার নিজের আদালতের উদাহরণ দেন। এটি দেশের সবচেয়ে বড় ফেডারেল আপিল আদালত। গত বছর এই আদালতে ৪৯ শতাংশ আপিল করেছিলেন এমন মানুষ, যাদের কোনো আইনজীবী ছিল না। তারা প্রায়ই হাতে লেখা আবেদন জমা দেন।
তিনি বলেন, এআই দিয়ে এসব হাতে লেখা আবেদন পড়ার উপযোগী করে তোলা সম্ভব হয়েছে। এতে আদালতের কর্মীদের সময় বাঁচে।
পাশাপাশি এতে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগও বাড়ে। কারণ তাদের আবেদন সহজে পড়া ও বোঝা যায়।
টমাস আরও জানান, তার আদালত ছাড়াও পঞ্চম ও ষষ্ঠ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস মান নিয়ন্ত্রণের কাজে এআই ব্যবহার করছে। প্রতি বছর তারা হাজার হাজার আবেদন পায়। এআই দিয়ে তারা যাচাই করে দেখে এসব আবেদন স্থানীয় নিয়ম ও ফরম্যাট মেনে চলছে কিনা।
ষষ্ঠ সার্কিটের বিচারক জেফরি সাটন জুডিশিয়াল কনফারেন্সের নির্বাহী কমিটির প্রধান। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্লার্কের অফিস মামলাকারীদের জানাতে পারে যে তাদের আবেদন আবার জমা দিতে হবে। এতে ছোটখাটো ভুলের কারণে মামলা খারিজ হয়ে যাওয়া এড়ানো যায়।
তিনি বলেন, এর মানে এই নয় যে এআই কোনো আপিলে চূড়ান্তভাবে না বলে দিচ্ছে। বরং এটি শুধু বলে দেয় যে আবেদন জমা দিতে হলে আগে ভুল ঠিক করতে হবে। তিনি মনে করেন, এটি একটি কার্যকর ব্যবহার।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

