২০০৮ সালে করা একটি চেক ডিজঅনারের মামলা ১৮ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি। মামলাটি এর মধ্যে নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত এবং আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়িয়েছে। পরে আবার তা ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফিরে এসেছে।
মামলার বাদী এবি ব্যাংক। ব্যাংকের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হোসেন আল আমিন সম্প্রতি ঢাকা জেলা ও দায়রা জজের কাছে অভিযোগ করেছেন। এতে ঢাকা যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ৭ আদালতের বর্তমান বিচারক মো. নিজাম উদ্দিন এবং সাবেক বিচারক মো. বুলবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালে এবি ব্যাংকের মহাখালী শাখা থেকে মেসার্স সুইপস্টার পেট নামের একটি প্রতিষ্ঠান ঋণ নেয়। খন্দকার মেহমুদ আলম ওই ঋণের গ্যারান্টার ছিলেন।
ঋণ পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হলে ২০০৮ সালের ২৫ মার্চ মেহমুদ আলম ব্যাংককে একটি চেক দেন। চেকটির মূল্য ছিল ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। একই দিন ব্যাংক চেকটি নগদায়নের জন্য জমা দেয়। পরে চেকটি ডিজঅনার হয়।
এরপর ওই বছরের ২১ মে মেহমুদ আলমের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করে এবি ব্যাংক।
মামলায় জামিন নেওয়ার পর আসামি নিজেকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নাকচ করলে তিনি হাইকোর্টে রিভিশন করেন। হাইকোর্টে সুবিধা না পেয়ে তিনি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগও সেই আবেদন খারিজ করে দেন।
এরপর মামলাটি ঢাকার ৭ নম্বর যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচার পর্যায়ে আসে। সেখানে আসামিপক্ষ বিভিন্ন সময়ে সময় নেয়। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রায়ের জন্য মামলাটি ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন রায় হয়নি।
এরপর একাধিকবার রায়ের তারিখ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। মামলার নথি অনুযায়ী, আটবার তারিখ পেছানোর পর সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়।
মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এবি ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতি, আইনমন্ত্রী এবং মহানগর দায়রা জজের কাছেও আবেদন করা হয়। তবে তাতেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যাংকের পক্ষে আবেদনকারী আইনজীবী হোসেন আল আমিন বলেন, মামলাটি প্রায় ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন আদালতে ঘুরছে। এত দীর্ঘ সময়েও একটি চেক ডিজঅনারের মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার বড় উদাহরণ।
তিনি বলেন, রায়ের জন্য একাধিকবার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও রায় হয়নি। এ কারণে এবি ব্যাংকের পক্ষ থেকে জেলা ও দায়রা জজের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোছাম্মদ সুরাইয়া মুস্তারী বলেন, ওই আদালতে পাঁচ শতাধিক মামলা রয়েছে। তবে আলোচিত মামলাটি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

