চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ওয়াসিমসহ ছয়জন নিহত হওয়ার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি হয়েছে। পরবর্তী শুনানি আগামী ১৩ অক্টোবর।
বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হয়। ফজলে করিমের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।
শুনানিতে আইনজীবী দাবি করেন, মামলার ঘটনাস্থল চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় হলেও ফজলে করিম ওই এলাকার সংসদ সদস্য ছিলেন না। তাই ঘটনার সময় সেখানে তাঁর উপস্থিতি বা সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষ দিতে না পারলে অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
আইনজীবীর বক্তব্যের জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, মামলায় ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়েছে। এখন রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী উপস্থাপন করবে। পরে আসামিপক্ষের সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ থাকবে। জেরার সময় প্রয়োজনীয় বিষয় তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
এ সময় রিভিউ আবেদনের বিষয়ে আরও কিছু আইনি ব্যাখ্যা জানতে চায় ট্রাইব্যুনাল। প্রস্তুতির জন্য দুই সপ্তাহ সময় চান ফজলে করিমের আইনজীবী। অন্য গ্রেপ্তার আসামিদের আইনজীবীরাও সময় চান। পরে ট্রাইব্যুনাল ১৩ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
এহসানুল হক সমাজী বলেন, রিভিউ আবেদনটি কার্যবিধির ২৬(৩) বিধানের আওতায় করা হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী, ন্যায়বিচারের স্বার্থে ট্রাইব্যুনাল কোনো বিষয় পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থ’ বলতে কী বোঝায় এবং এর প্রয়োগের পরিধি কী, তা স্পষ্ট করতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট রায় ও আইনগত নীতিমালা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে অন্যান্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিচারিক নীতিও পর্যালোচনা করা হবে।
এ বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য সময় চাওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল আবেদন গ্রহণ করেন এবং ১৩ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন বলে জানান আইনজীবী।
শুনানির সময় ফজলে করিম চৌধুরীসহ গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। অন্যরা হলেন যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।
মামলার আসামিরা
মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক দুই মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন ও রেজাউল করিম। এ ছাড়া মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে রয়েছেন।
অভিযোগ গঠনের পর রিভিউ
জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের দিনও নির্ধারণ করা হয়।
এরপর গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর এসব আবেদনের শুনানি শুরু হয়।
এর আগে ৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। ৭ এপ্রিল তা আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ তিনটি অভিযোগ এনেছে। প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার কথা বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম এবং হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা ও আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্রজনতাকে গুরুতর আহত করার কথা বলা হয়েছে।

