রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা নিয়োগে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুঃসময়ে ভূমিকা রাখা আইনজীবীদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু।
শনিবার প্রধান কার্যালয় বরাবর তিনি এ আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আইন কর্মকর্তা নিয়োগে যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, ত্যাগ ও দীর্ঘদিনের অবদান নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এবং অধস্তন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে আইনজীবী সমাজের একটি অংশের অভিযোগের কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী আইনজীবী নেতাদের জুনিয়র, চেম্বারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনেরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পাচ্ছেন।
আবেদনকারী দাবি করেছেন, গত প্রায় ১৭ বছরে অনেক আইনজীবী রাজনৈতিক মামলা, হামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের মধ্যেও বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ নিজেরাও নিপীড়ন, হয়রানি এমনকি স্বল্প সময়ের জন্য গুমের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, এসব আইনজীবী কঠিন পরিস্থিতিতেও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের পাশে থেকেছেন এবং আদালতে তাঁদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন। কিন্তু কোনো প্রভাবশালী সিনিয়র আইনজীবীর ঘনিষ্ঠ বা নির্দিষ্ট কোনো চেম্বারের সদস্য না হওয়ায় তাঁদের অনেকে যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, আইন কর্মকর্তা নিয়োগে ব্যক্তিগত প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, গোষ্ঠীপ্রীতি, চেম্বারকেন্দ্রিক প্রাধান্য কিংবা অস্বচ্ছ সুপারিশের সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে যাচাইযোগ্য একটি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষভাবে দুঃসময়ে মামলা, হামলা, নিপীড়ন ও ঝুঁকি উপেক্ষা করে দল, গণতন্ত্র ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থাকা আইনজীবীদের অবদান যাচাই করে মূল্যায়নের অনুরোধ করা হয়েছে।

