কক্সবাজারের উখিয়ায় বহুল আলোচিত ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলেও মামলার এজাহার ও আসামির নাম নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রিসোর্টটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ব্যবস্থাপনা ও মালিকানায় দুই ব্যক্তির নাম স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও, পুলিশ কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রাখা হয়েছে কেবল একজনকে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল অবহেলার ধারা দিয়ে এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির প্রকৃত দায় নির্ধারণ কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যখন প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কোনো লাইসেন্স বা পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।
গত ১৭ অক্টোবর উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সূত্রধর বাদী হয়ে অবহেলার কারণে মৃত্যু ও গুরুতর আহতের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করা ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন; রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর সুলতান মিয়া, প্রধান ব্যবস্থাপক সাঈদ আহমেদ, ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাঈদ এবং সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন সুমন। এর মধ্যে সহকারী ব্যবস্থাপক সুমনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই রিমন ঘোষকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত এই রিসোর্টটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে মালিক হিসেবে তানভীর সুলতান মিয়া ছাড়াও নিয়াজ মোরশেদ নামের আরেক ব্যক্তির নাম যুক্ত রয়েছে। অথচ প্রথম দফার এজাহারে নিয়াজ মোরশেদের নাম অন্তর্ভুক্ত না করায় তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে একজনের নাম পাওয়া গিয়েছিল। তবে এখন নিয়াজ মোরশেদ নামে অন্য এক মালিকের নামও সামনে আসছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে পরবর্তীতে তার নাম মামলায় যুক্ত করা হবে। এছাড়া আগুনে রিসোর্টটির সমস্ত নথিপত্র পুড়ে যাওয়ায় ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার আইনি দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনজীবী সেজান আহসান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কেবল অবহেলার কারণে মৃত্যুর ধারায় মামলাটি সীমিত রাখলে সুবিচার নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। রিসোর্টটি নির্মাণে পরিবেশ ও ফায়ার সার্ভিসের কোনো অনুমোদন ছিল কি না এবং আইন লঙ্ঘন করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে তা পরিচালনা করা হচ্ছিল কি না; তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার চার মাস আগেই ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সবিহীন এই রিসোর্টটিকে নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্ক করেছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও নিয়মের তোয়াক্কা না করার মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত দশটি তাজা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

