পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন ঠেকানো এবং পদ্মা সেতু ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সোমবার জনস্বার্থে মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা মওসুসের পক্ষে রিটটি করেন সংস্থার চেয়ারম্যান, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া।
রিটে পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে পদ্মার প্রাকৃতিক গঠন ও নদীতীরের স্থিতিশীলতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আবেদন করা হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
রিটে পদ্মা নদীর ভাঙন এবং এর ফলে নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে পদ্মা সেতু ও সংশ্লিষ্ট জাতীয় অবকাঠামোর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে আবেদন করা হয়েছে।
রিটকারী সংস্থার বক্তব্য, পদ্মা নদী দেশের অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গঠন ও প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হলে নদীতীরবর্তী মানুষ, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্যও আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

