জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি ট্রাইব্যুনালের কার্যতালিকায় রয়েছে।
যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের অপেক্ষায়
গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২৭ অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তাঁর বক্তব্যের জবাবে ৭ অক্টোবর আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তিতর্ক দেন।
মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। এ কারণে তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যে অভিযোগে বিচার
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক বক্তব্যে আজগর আলী বলেছিলেন, আন্দোলন দমনে দলীয় নেতা হানিফের নির্দেশনা রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কের সময় ওই বক্তব্যের ওপর গুরুত্ব দেয়। প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার প্রভাবেই কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটে।
আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগকে ব্যবহারের বিষয়ে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি বৈঠকে উপস্থিত থেকে ওই অবস্থানের প্রতি সমর্থন দেওয়া।
আরেকটি অভিযোগ হলো, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ছাত্র জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং এ নিয়ে ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া।
এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য রায়ে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা রায় ঘোষণার পর জানা যাবে।
যেভাবে শুরু হয় বিচার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এসব ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।
গত বছরের ৬ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। একই বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়।
এর আগে ১০ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। পরে রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত প্রমাণ দাখিল করায় মামলাটিতে আবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

