প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। ফলে মামলায় ডন আপাতত কারাগারেই থাকছেন।
এর আগে গত ৯ আগস্ট ভোরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ২৭ আগস্ট একই ম্যাজিস্ট্রেট এই মামলায় তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারেই আটক রয়েছেন।
মামলার পটভূমি দীর্ঘ। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। প্রায় তিন দশক পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। তিনি মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারাগুলো হত্যা এবং একই উদ্দেশ্যে যৌথভাবে অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মে ফেয়ার বিউটি পার্লারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
জামিন নামঞ্জুর হওয়ার অর্থ এই নয় যে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এটি মামলার প্রাথমিক পর্যায়ের একটি আদেশ মাত্র। দীর্ঘ সময় পর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে শুরু হওয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও তদন্তের অগ্রগতি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত দেবে।

