মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ লিমিটেডের ৭৮৬ কোটি টাকার বেশি মূল্যের অবরুদ্ধ শেয়ার অবমুক্ত করার আবেদনের শুনানি হবে আদালতে। তবে এসব শেয়ার অবমুক্ত করার বিরোধিতা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালতে নগদের আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক (কোর্ট) আমিনুল ইসলাম বলেন, অবরুদ্ধ শেয়ার মুক্ত করার জন্য নগদ আদালতে আবেদন করেছে। শেয়ারগুলো অবমুক্ত না করার পক্ষে আদালতে অবস্থান নেবে দুদক।
এর আগে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর নগদ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৭৮৬ কোটি ৩৯ হাজার ২৮৪ টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন একই আদালত।
দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
নগদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ অনুসন্ধানে
দুদক বলছে, নগদের মাধ্যমে সরকারি ভাতা বিতরণের অর্থ সরিয়ে নেওয়া, বিদেশি বিনিয়োগের অর্থের উৎস গোপন, বিদেশি ঋণ পরিশোধে জিরো কুপন বন্ডের অর্থ ব্যবহার এবং অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে তানভীর আহমেদ মিশুকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি ভাতা বিতরণের পর অব্যবহৃত অর্থ সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তার ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়।
পরে ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও এবং ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে এসব অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয় বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
দুদকের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭০৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার ২২৯ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ওই অর্থের একটি অংশ থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার কেনায় ব্যবহার করা হয়। পরে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড নগদ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
দুদকের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব শেয়ার বিক্রি বা অন্যের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। শেয়ার বিক্রির অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে সংস্থাটি মনে করছে।
এ ছাড়া শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকেরা বৈধ পথে বিদেশ থেকে বিনিয়োগের অর্থ এনেছেন, এমন তথ্য অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি বলেও দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের মতে, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তর করা হলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুদক বিধিমালা অনুযায়ী শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ রাখার আবেদন করা হয়েছিল।

