প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবি দিয়ে ফেসবুকে করা একটি পোস্টে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. আবু বকর সিদ্দিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সাত দিনের রিমান্ড শেষে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আবু বকরকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক ইয়াছিন পাইক। আসামি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানালে তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আবু বকর আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, রিমান্ড শেষে বেলা তিনটার দিকে আসামির জবানবন্দি নেওয়া হয়। এ মামলায় আবু বকর সিদ্দিক একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি। তাঁর কোনো রাজনৈতিক পদ বা পরিচয় আছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
এর আগে ২৫ অক্টোবর আবু বকরকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি সরকারপ্রধানকে হত্যার চক্রান্তে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। ওই ঘটনায় কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, স্নাইপার বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও বলা হয়।
এ ছাড়া আবু বকর কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, চক্র বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কোনো পরিকল্পনাকারী বা চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২১ অক্টোবর ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয়। পোস্টে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত লাল সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিলো।’
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই আইডি ব্যবহারকারী হিসেবে আবু বকর সিদ্দিককে শনাক্ত করা হয়। এরপর রাজশাহীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের সময় আবু বকরের ব্যবহৃত মুঠোফোন জব্দ করা হয়। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ওই ফোন থেকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্য করার তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগের এসআই মো. মানিক হোসেন রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন।

