আজ সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানির জন্য দিলীপ আগারওয়ালাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিজুল হক দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর দিলীপ আগারওয়ালার বিরুদ্ধে মামলাটি করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, দিলীপ আগারওয়ালা অসাধু উপায়ে নিজের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখেছেন।
এ ছাড়া তাঁর এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে ৩৮৫ কোটি ৩২ লাখ ৬২ হাজার ১২৩ টাকা জমা এবং ৩৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯৪ হাজার ১৪০ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এসব হিসাবে ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগ করেছে দুদক।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে দিলীপ আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন সোনা চোরাচালান ও অর্থপাচারের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) করা একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় দুই দফায় রিমান্ড শেষে গত ২৬ অক্টোবর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। পরে বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
সম্পাদনা নোট: সব আর্থিক অনিয়ম ও অপরাধের তথ্যকে দুদকের মামলার অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালতের আদেশে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, অভিযোগগুলো এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত নয়।

