মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের জেরা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কয়েক দফা বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে জিয়াউলের বোন ও আইনজীবী নাজনীন নাহারকে উদ্দেশ করে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ‘আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু সহ্য করেছি।’
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এ এ ঘটনা ঘটে। বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। এদিন সপ্তম দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। জিয়াউলের পক্ষে এদিন জেরা করেন আইনজীবী সাহিদুর রহমান।
জেরার একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্তের সময় তিনি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ে গিয়ে কোনো তথ্য সংগ্রহ করেননি। জেরায় জিয়াউল আহসানের র্যাব ও এনএসআইয়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এসব সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার এই বক্তব্যের পর কয়েকজন প্রসিকিউটর তাকে কম্পিউটারের ডিসপ্লের দিকে তাকাতে বলেন। তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীদের পাশে বসা নাজনীন নাহার প্রসিকিউশনকে সব প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় নাজনীনের দিকে আঙুল তুলে প্রসিকিউটর তামিম ওই মন্তব্য করেন।
এর জবাবে নাজনীন বলেন, তার সঙ্গে কথা বলার সময় যেন আঙুল না তোলা হয়। পরে প্রসিকিউটর তামিম আসামিপক্ষের আগের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। ওই বক্তব্যে ট্রাইব্যুনাল কী রায় দেবেন, তা তারা জানেন বলে বলা হয়েছিল।
পরে বিষয়টি নিয়ে নাজনীনকে প্রশ্ন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আসামিপক্ষ কীভাবে ট্রাইব্যুনালের রায় সম্পর্কে আগে থেকেই এমন কথা বলতে পারে, তা জানতে চান তিনি। এ সময় আদালতকক্ষে মামলার জেরা নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।

