বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আবারও সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ।
তদন্তে পাওয়া আটটি কারণ উল্লেখ করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ৩১ অক্টোবর একই আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করে ফের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
যে কারণে ফের রিমান্ড
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে তাহসিফ, দীপ ও মামলার আরেক সন্দেহভাজন এক তরুণী বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী বাসায় ফিরে যান।
পরদিন রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। পরে তাঁরা তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে গেলে কয়েকজন লোককে দেখতে পান। এরপর তাঁরা আলাদা হয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য গোপন রেখে যাচাই করা হচ্ছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং কিছু বিষয়ে নীরব ছিলেন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীপকে ফের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে আটটি কারণ দেখিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর উপস্থিতিতে সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই ও বিশ্লেষণ এবং তাহসিফের সঙ্গে নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবস্থানের সময় ১৫ থেকে ২০ মিনিট তিনি কোথায় গিয়েছিলেন ও কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা খুঁজে বের করা।
এ ছাড়া তাহসিফ, দীপসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার, হত্যার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণের বিষয়ও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব বিষয়ে দীপকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে তাঁর সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
যেভাবে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ
গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ৩১ অক্টোবর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পরে তাহসিফের বন্ধু দীপকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
মামলাটির তদন্ত করছে নৌ পুলিশ।

